ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সময়ের ব্যাপার

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ১০:২৪ পিএম

বিরোধপূর্ণ সীমান্ত, সম্পদের ঘাটতি, ভূমিকম্প ও সন্ত্রাসবাদ বিদায়ী বছরে দক্ষিণ এশিয়াকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল। এসবের মধ্য থেকে নতুন বছরেও দুটি সংকট বড় হয়ে দেখা দেবে। একটি আফগানিস্তানের যুদ্ধ। অন্যটি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত বছরে পরমাণু শক্তিধর ভারত-পাকিস্তান একাধিকবার যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

দি উয়্যার বলছে, নববর্ষের প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানকে ফোনে তিনি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণরেখায় বিগত কয়েকদিন দুদেশের সেনাদের মধ্যে গোলাবিনিময় হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তি অনুযায়ী ২০০৮ সাল থেকে চলে আসা ষাণ¥াসিক বন্দি এবং ১৯৮৮ সাল থেকে দুদেশের পরমাণু অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবার আলোর মুখ দেখেনি। যদিও ভারতে এখন পাকিস্তানের ২৬৭ বেসামরিক ও ৯৯ জেলে এবং পাকিস্তানে ৫৫ বেসামরিক ও ২২৭ ভারতীয় জেলে বন্দি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের কাছে প্রতিবেশীরাই সবার আগে। এ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির বিষয়ে নিজের লক্ষ্য এবং প্রতিশ্রুতির কথাও জানান তিনি। বিগত কয়েক বছরের সম্পর্কের অভিজ্ঞতায় ইমরান খানকে শুভেচ্ছা না জানানো অনুমিত ছিল। কারণ দিল্লি বরাবর পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি আলাপ নাকচ করে আসছে। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলে, তবেই আলোচনা হতে পারে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় সেনা নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মুহাম্মদ দায় স্বীকার করলে দুদেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর ভারত প্রথমবার পাকিস্তান ভূখণ্ডে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়। পাকিস্তানও একটি বিমান ভূপাতিত ও ভারতীয় পাইলটকে আটক করে। যদিও কয়েকদিন পরে তাকে ছেড়ে দেয়।

এরই মধ্যে আগস্টে মোদি সরকার সংবিধানে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে। একইসঙ্গে জম্মু ও লাদাখ নামে কেন্দ্রীয়শাসিত দুটি অঞ্চলে ভাগ করে। পুরো উপত্যকায় সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজনীতিকসহ বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করে। এর জবাবে পাকিস্তান কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়। ইসলামাবাদ ভারতীয় হাইকমিশনারকে বরখাস্ত ছাড়াও দিল্লির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছেদ করে। বিষয়টি পাকিস্তান জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শক্ত ভাবে তুলে ধরে। এক পর্যায়ে ইস্যুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত শুভেচ্ছা কূটনীতির মাধ্যমে আগের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। তারা পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে অন্যদের নিয়ে পথ চলতে চাইছে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়বে। বলা চলে যুদ্ধ থেকে দেশ দুটি ট্রিগার দূরত্বে অবস্থান করছে। এ বছর যেকোনো একটি ঘটনায় বড় হতাহত হলেই ট্রিগারের লাগাম ছুটে যাবে। কারণ পুলওয়ামার পর ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। বরং ভারত এনআরসি বিতর্কের মধ্যে সিএএ করে পাকিস্তানের সামনে আগ্রাসী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। পাকিস্তানও ছাড় দেবে না। এখন ওয়াশিংটন কিংবা তৃতীয় পক্ষ কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ না করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ মধ্যরাতের এক মিনিটের ব্যাপারমাত্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত