বিশ্বব্যাপী নিরামিষভোজীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রেন্ড অনুযায়ী বড় সুপারমার্কেটগুলো নিরামিষ খাবারের সঙ্গে মানানসই খাবার গুরুত্ব পাচ্ছে এখন।
বিবিসি বাংলা জানায়, এই মুহূর্তে যুক্তরাজ্যে নিরামিষ খাবারের পেছনে বেশি অর্থ ব্যয় করছে মানুষ।
ভেগান সোসাইটির তথ্য মতে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে নিরামিষ খাবারের বিস্তার বেড়েছে ৪০০ গুন। যুক্তরাষ্ট্রেই গত তিন বছরে নিরামিষ খাবারের বিস্তার হয়েছে ৬০০ গুন বেশি।
বৈশ্বিকভাবেও মাংসবিহীন খাবারের চাহিদা ২০১৭ সাল নাগাদ এক হাজার গুন বেড়েছে। ভেগান বা নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় কোনো প্রকার প্রাণীর মাংস, মাছ, দুগ্ধজাতীয় খাবার কিংবা ডিম থাকে না।
২০১৮ সালে ভেগান সোসাইটির করা জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য এখন ছয় লাখের মতো মানুষ ভেগান বা নিরামিষ খাদ্যতালিকা মেনে চলেন। অথচ ২০০৬ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র দেড় লাখের মতো। আর এদের মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। একই সময়ে আইসল্যান্ডে উদ্ভিজ্জ খাবারের চাহিদা প্রতি বছর ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ নিজেকে ‘নিরামিষ জীবনধারার’ মানুষ বলে বর্ণনা করেন, অর্থাৎ যারা পোশাক এবং প্রসাধন সামগ্রীর ক্ষেত্রেও অপ্রাণীজ উপাদান থেকে তৈরি পণ্য ব্যবহার করেন।
যুক্তরাজ্যের সুপারমার্কেট চেইনগুলো নিরামিষপ্রিয় মানুষদের জন্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জিনিসপত্র রাখে এখন। ২০১৮ সালে সুপারশপ ওয়েইটরোজ নিজেদের ১৩০টি দোকানে আলাদা ভেগান শাখা খোলে। সেই সঙ্গে কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডস এবং গ্রেগস এর মতো ফাস্টফুড কোম্পানিগুলো সারা পৃথিবীতে ভেগান ফুড চালু করতে বাধ্য হয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিনটেলের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বাজারে বছরে ৭৫ কোটি পাউন্ডের বেশি মাংস-ছাড়া খাবার বিক্রি হয়, তিন বছর আগে যা ছিল ৫৫ কোটি পাউন্ডের কম। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ২০২১ সালে আগ পর্যন্ত এ চাহিদা কমার কোনো লক্ষণ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়ছে নিরামিষ খাবারের প্রচারণা। গত বছর কেবল ইনস্টাগ্রামেই এ সংক্রান্ত প্রায় নয় লাখের মতো পোস্ট দেয়া হয়। গুগল সার্চেও বিষয়টি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়, তার মধ্যে রয়েছে-ভেগান খাবার কী? এটা কতটা টেকসই এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এর ভূমিকা কী?
মূলত স্বাস্থ্য বিবেচনা ও পরিবেশ সচেতনতার কারণে মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৪৯ ভাগ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে খাদ্যতালিকায় মাংস না রাখার পক্ষে মতো দিয়েছেন।
কারণ গরুর মাংস ও প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস খেলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে বলে সাম্প্রতিক অনেক গবেষণাতেই তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বেশ কিছু গবেষণা বলছে, ভেগান হলে স্বাস্থ্যের কিছু উপকার সত্যিই হয় বটে।
