মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক বিরোধিতার ব্যাখ্যা দিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৩৩ পিএম

সম্প্রতি আলোচিত মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কেন বিরোধিতা করছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামিআর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও সহযোগী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী।

মাতৃদুগ্ধ ব্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান আমরা পছন্দ করি। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আমরা আনন্দিত। তবে মনে রাখতে হবে বিজ্ঞান মানবতাকে রক্ষা করে আবার ধ্বংসও করে। নৈতিকতা বিবর্জিত বিজ্ঞান মানুষকে বিপথগামী করে। তার উদাহরণ সদ্য প্রতিষ্ঠিত হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক। ইসলামে মাহরামকে বিবাহ করা হারাম। এই ব্যাংক চালু রাখলে এই বিধান ধ্বংসের মুখে পড়বে। কারণ মাতৃদুগ্ধ পান করার মাধ্যমে দেড় শতাধিক নারীকে বিবাহ করা হারাম হয়ে যায়। অথচ এ ব্যাংক থেকে দুধ পান করলে ওই মাহরামদের চেনা প্রায় অসম্ভব। ফলে দেখা যাবে ব্যক্তি তার নিজের বোন ও মাহরামকেই বিবাহ করে জীবনযাপন করছে’।

তিনি বলেন, মুসলিমদের ধ্বংসাত্মক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে হলে এই ব্যাংক বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে আলেম-উলামাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প পথ বের করা যেতে পারে’।

শুক্রবার আলজামিআতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

এতে সভাপতিত্ব করেন জামিআর মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

সম্মেলনে দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম উম্মাহকে দ্বীনি দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

একই দিন বাদ ইশা দস্তারবন্দি সম্মেলনে গত বছরের দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে পাগড়ি সনদ প্রদান করা হয়।

বিশ্বখ্যাত দারুল উলুম হাটহাজারীর বার্ষিক মাহফিলের মূল অনুষ্ঠান বাদ ফজর থেকে আরম্ভ হয়ে এশা পর্যন্ত চলমান থাকে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত উপমহাদেশ খ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব আল্লামা আরশাদ মাদানি হাফি. এর সুযোগ্য সাহেবজাদা হজরত মাওলানা আযহারুল হাসান মাদানি।

তিনি জুমার পূর্বে আলোচনা রাখেন এবং জুমার খুতবা দেন ও ইমামতি করেন।

আহমদ শফী বলেন, ‘সবাই দুনিয়াতে শান্তি অন্বেষণ করে। শান্তির জন্য দুনিয়ার পেছনে ছুটতে থাকে, অথচ দুনিয়ার মাঝে শান্তি নিহিত, সেই শান্তি পেতে হলে তিনটি কাজ করতে হবে। প্রথমে দুনিয়া ত্যাগ করা শিখতে হবে, পার্থিব লোভ-লালসা ত্যাগ করতে হবে; দ্বিতীয়ত, নিজের আত্মার শুদ্ধি ও সংশোধন করতে হবে। সব প্রকার অন্যায় ও অনৈতিক কাজ পরিহার করতে হবে। কৃত পাপ থেকে তওবা করতে হবে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করবে, নিশ্চয় সে কামিয়াব হবে। তৃতীয়, সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপন করতে হবে। সব প্রকার বিদয়াত পরিহার করতে হবে। এ তিনটি আমলকে যদি আমরা আঁকড়ে ধরি তাহলে শান্তি আপনা-আপনি এসে যাবে। ঘরে-বাইরে, পরিবারে, সমাজে শান্তি বিরাজ করবে’।

নসিহত শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন তিনি।

বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামিআর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তিনি চলমান বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আলোচনা রাখেন। ভারতের নাগরিকত্ব বিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করেন।

সম্মেলনের সঞ্চালনায় ছিলেন জামিআর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও সহযোগী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি জসিমুদ্দীন, সহকারী শিক্ষাসচিব মাওলানা আনাস মাদানি ও মাওলানা নুরূল ইসলাম জাদীদ সাহেব।

মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, হজরত মাওলানা আযহারুল হাসান মাদানি (ভারত), হজরত মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, হজরত মাওলানা মুফতি আব্দুস সালাম সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা শেখ আহমদ সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা সাজেদুর রহমান সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ সাহেব দা.বা, হজরত মাওলানা হাফেজ নূরুল ইসলাম , হজরত মাওলানা আব্দুল বাছেত খান, হজরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা লোকমান সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা নোমান সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা সালাহ উদ্দীন সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা মুফতি শামসুদ্দীন জিয়া সাহেব দা.বা. ,  হজরত মাওলানা মুফতি জসীম উদ্দীন সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা সলীম উল্লাহ সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা মুফতি আহমুদুল্লাহ সাহেব দা.বা, হজরত মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান সাহেব দা.বা , হজরত মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হজরত মাওলানা আযীযুল হক আলমাদানী, মওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেব দা.বা., মাওলানা আবু আহমদ সাহেব দা.বা., মুফতি হুমায়ুন কবীর সাহেব দা.বা., মাওলানা ফোরকান আহমদ সাহেব দা.বা., ড. নূরুল আবসার সাহেব দা.বা., হজরত মাওলানা নূরুল ইসলাম, হজরত মাওলানা মুফতি নূরুল্লাহ সাহেব দা.বা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত