বিএনপি নেতারা আবোলতাবোল বকছে: ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৯ পিএম

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয় আঁচ করতে পেরে বিএনপি নেতারা আবোলতাবোল বকছে বলে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপির চোখে মুখে হারের সুর বাজছে।

রবিবার রাজধানীর রমনা পার্ক রেস্তোরাঁয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল উত্তর প্রীতিভোজ ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এবং এই নির্বাচনকে দলটির নেতারা প্রহসনের নির্বাচন বলছেন এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন এখনো হলোই না, এর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব, মওদুদ সাহেব আগাম মন্তব্য করলেন। এটা বিএনপির পুরোনো স্বভাব। তারা এভাবেই কথা বলেন।

তিনি বলেন, তারা (বিএনপির নেতারা) নির্বাচন হওয়ার আগেই হেরে গেছেন। তাদের চোখে মুখে পরাজয়ের সুর। তারা আন্দোলনে পরাজিত, নির্বাচনে কিভাবে বিজয়ী হবে? এ দেশে দেখা যায় যারা আন্দোলনে পরাজিত হয়, তারা কোনো দিন নির্বাচনে বিজয়ী হয় না। এ জন্য তাদের কথামালার চাতুরী।

বিএনপিকে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনটা আগে হোক। জাতি দেখবে এ দেশে কেমন নির্বাচন হয়। আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশনকে একটা ফ্রি, ফেয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারদের ঘরে ঘরে যাওয়ার জন্য। আমরা নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করলে আমরা কেন জনগণের দোরগোড়ায় ভোট ভিক্ষা করতে যাব। আমরা তো ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হতে চাই।

তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে রেজাল্ট ঘোষণার আগে ব্যাপক কারচুপি, সরকারি দলের জালিয়াতি; এসব কথা বিএনপি বলেই থাকে। কাজেই এসব নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না।

দেশ পরিবারতন্ত্রের দিকে যাচ্ছে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া, এরা কোন পরিবারের নেতা আমরা জানতে চাই। বিএনপির মূল নেতৃত্বই তো একটি পরিবার থেকে এসেছে। বেগম জিয়া ও তার সন্তান; তারাই তো হর্তা-কর্তা, বিধাতা। এখানে মির্জা ফখরুল তো তাদেরই ইয়েস ম্যান হিসেবে কাজ করে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র আছে, বিএনপিতে গণতন্ত্র নেই। তারা আমাদের এক বছর আগেই মেয়াদ শেষ হলেও আজ পর্যন্ত তাদের সম্মেলন করতে পারেনি। তারা মিটিং আহ্বান করেও তা ফ্লপ হয়েছে। সেখান থেকে কর্মীরা কিছু পায়নি, কর্মসূচি নিতে পারেনি। তাদের কোনো ঘরোয়া গণতন্ত্র নেই। তাদের জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির কোন অস্তিত্ব নেই। কবে কমিটি হয়েছে কেউ জানে না। বিএনপির মুখে এই কথা শোভা পায় না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সভাপতি, এটা বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে তিনি আসেননি। শেখ হাসিনা যোগ্যতার বদৌলতে প্রমাণ করেছেন তিনিই বাংলাদেশের কান্ডারি। তার জন্যই বাংলাদেশ বিশ্ব সভায় বিশেষ মর্যাদায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। 

শেখ হাসিনা ক্ষমতার জন্য নয় মানুষের জন্য রাজনীতি করেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি পরবর্তী নির্বাচন নয়, পরবর্তী জেনারেশনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সে জন্য তার ভিশন বিস্তৃত হয়েছে ২০২১, ৪১, ২১০০ সাল পর্যন্ত। তিনি নিছক পলিটিশিয়ান নন, তিনি আজকে তার গুনে-কর্মে, কীর্তিতে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সে কারণে নেত্রী হিসেবে গত ৪৪ বছর ধরে সাহস, তার দক্ষতা সততা, পরিশ্রমে এই দেশে শেখ হাসিনার সমতুল্য একজন নেতাও নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবিসংবাদিত নেত্রী শেখ হাসিনা। এটাই বাস্তবতা। এটা পরিবারের কোনো বিষয় নয়। শেখ হাসিনা তার ক্যারিশমার বদৌলতে, নেতৃত্বের অসামান্য গুণাবলি, মেধা এবং ভিশনের জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের নম্বর ওয়ান লিডার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত