উচ্চতর চিকিৎসা নিতে আগ্রহী খালেদা জিয়া: ফখরুল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:০৫ পিএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উচ্চতর চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি উচ্চতর চিকিৎসা নিতে আগ্রহী। আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো রেসপন্স পাইনি’।

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ তাকে আটকে রাখা হয়েছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তার যে কোনো অবস্থার জন্য এই সরকারকেই দায় নিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। গতকাল (রবিবার) তার বোন, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিরা দেখা করেছেন। তারা বাইরে এসে অঝোরে কান্নাকাটি করছেন। তারা বলেছেন দেশনেত্রী গুরুতর অসুস্থ। খেতে পারছেন না। বমি হচ্ছে। বিছানা থেকে দশ পা উঠিয়ে টয়লেটে যেতে পারছেন না। দু’জনের সাহায্য নিতে হচ্ছে’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। ন্যূনতম জামিন যেটা তার প্রাপ্য অধিকার সেটাও দেয়া হচ্ছে না। সরকার এ কাজ করতে গিয়ে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দুঃখের বিষয় উচ্চ আদালতকেও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। এ ধরনের মামলায় প্রায় সবাই জামিনে মুক্ত। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা থেকে শুরু করে মহীউদ্দীন খান আলমগীর পর্যন্ত সবাই এ ধরনের মামলায় জামিনে মুক্ত’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিন মাস আগে যে মেডিকেল রিপোর্ট অক্টোবরের ১২ তারিখে দেয়া হয়েছে, সেখানে ডাক্তাররা বলছেন খালেদা জিয়া এ্যাট এ ক্রিপল স্টেট অর্থাৎ তিনি পঙ্গু অবস্থায় আছেন। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। তিনি সেটা পাচ্ছেন না’।

উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

এ সময় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডাক্তার এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ ধরে মেডিকেল বোর্ড শনি থেকে বৃহস্পতিবার একেকজন ভাগ করে তাকে দেখতে যাচ্ছেন বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু কোনো কোনো দিন কেউই যাচ্ছেন না। মেডিকেল বোর্ড বলেছে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দরকার। মেডিকেল বোর্ডে যারা আছেন, তারা স্বনামধন্য এটা ঠিক। কিন্তু এখন  অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য অ্যাডভান্স মেডিকেল সেন্টার  দরকার যা বিএসএমএমইউ নয়’।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব তো এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদিন সাহেব সিএমএইচে ভর্তি থেকে অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য বিদেশে যেতে হয়েছে। অর্থাৎ অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য অ্যাডভান্স মেডিকেল সেন্টারই  দরকার’।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস,  আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত