তেহরানে সোলেইমানির জানাজায় হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:০৬ পিএম

ইরানি জেনারেল কাসেম সুলেইমানির জানাজায় অংশ নিয়েছেন ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ।

আরব নিউজ জানায়, সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সোলেইমানির জানাজায় অংশ নিতে যান গাজার ক্ষমতাসীন সরকারের এই নেতা।

এ দিন সোলেইমানির জানাজা পড়ান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জানাজায় অংশ নেয়া মানুষের শোক মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয় তেহরান।

জনসমাবেশের উদ্দেশে এক বক্তব্যে কাসেম সোলেইমানিকে ‘জেরুজালেমের শহীদ’ আখ্যা দেন ইসমাইল হানিয়া।

তিনি বলেন, ‘হামাসসহ ফিলিস্তিনের সংগঠনগুলো ইহুদিবাদী প্রজেক্ট ও মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় সোলেইমানির দেখানো পথ অনুসরণ করবে।’

সোলেইমানির জানাজায় হানিয়ার অংশগ্রহণ অনেকটা অপ্রত্যাশিত ছিল। গাজার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার ওপর আঞ্চলিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। গত বছর ডিসেম্বরে মিসর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

imageগত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল সোলেইমানি। তিনি ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন।

ইসরায়েলি হামলা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে হামাসকে সহায়তা দিত সোলেইমানির কুদস বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন শক্তি ও ইসরায়েলের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন এই ইরানি জেনারেল।

ওই হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।

রবিবার সকালে আহভাজ শহরে সোলেইমানির মৃতদেহ পৌঁছায়। সেখানে তার প্রতি শোক জানাতে আসা মানুষের সমাবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক মিছিলে পরিণত হয়। তারা সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস’ চেয়ে স্লোগান দেয়।

শনিবার ইরাকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও লাখও মানুষ অংশ নেয়। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষ ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে। সেখানেও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু’ চেয়ে স্লোগান দেয় তারা।

মঙ্গলবার ইরানের পবিত্র শহর কওমে শেষ জানাজার মধ্যে দিয়ে নিজ শহর কেরমানে দাফন করা হবে সোলেইমানিকে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত