সেচ প্রকল্পের পানির দর ঠিক করা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে গতকাল সোমবার সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় গত রবিবার রাতে সংঘর্ষে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে।
বিজয়নগর থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের চান মিয়া সর্দার ও রাজু সর্দারের লোকদের মধ্যে এলাকার সেচ প্রকল্পের পানির দর ঠিক করা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে প্রথমে ব্যাপক লাঠিপেটা করে এবং পরে কাঁদানে গ্যাসের ৭-৮টি সেল ও ৫০-৬০টি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিনি জানান, সংঘর্ষ চলাকালে এএসআই প্রবোধ দাস, আসহাব, শংকর, কনস্টেবল মেহেদী, অলিউল্লাহ, সাইফুল আহত হন। এ সময় বেশ কজন এলাকাবাসীও আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত আলাউদ্দিন, রাজু, রুহুল আমিন, আবুল কাসেম, রানা, বাঁধন চৌধুরী, লোকমান, হোসাইন, মোহাম্মদ আলী, আবুল খায়েরসহ ৭৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রায়বাঙ্গালী গ্রামের ইউপি সদস্য মনু মিয়া ও আবদুল মালিকের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে একই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী গোলাম রব্বানী ও তার মামা বুরহান উদ্দিনের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। গত রবিবার বিকেলে গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে মনু মিয়ার পক্ষের সেলিম মিয়ার ছেলে ফাহিম ও রব্বানীর পক্ষের ফটিক মিয়ার ছেলে মাজহারুলের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে রব্বানীর পক্ষের মায়াজ মিয়া (৪৭) ও মনু মিয়ার পক্ষের আলীনুর (১৬), মুস্তাকিম (২১) গুলিবিদ্ধ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মনি রানী জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দিরাই থানার ওসি বেলায়েত হোসেন জানান, দুপক্ষের বিরোধের জেরে ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
