সুনামগঞ্জে নৃশংসভাবে শিশু তুহিন মিয়া (৫) হত্যা মামলায় শিশুটির বাবা ও তিন চাচার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, মামলার অপর আসামি তুহিনের চাচাতো ভাই সাহারুল ওরফে শাহরিয়ারের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তার বিচারকার্য শিশু আদালতে হবে।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদারের আদালতে এই অভিযোগ গঠন হয়।
পুলিশ চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ঘটার আড়াই মাসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই তুহিনের পরিবারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।।
আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বাদী পক্ষে ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি শামসুন্নাহার বেগম শাহানা। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর তুহিন হত্যা মামলায় নিহতের বাবা আবদুল বাছির (৪০), চাচা নাসির উদ্দিন (৩৫), আবদুল মছব্বির (৪৫) ও জমসেদ আলী (৬০) এবং চাচাতো ভাই সাহারুলের (১৭) বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
প্রসঙ্গত গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কেজাউরা গ্রামের সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে নির্মমভাবে গলা, কান, লিঙ্গ কেটে হত্যা করা হয়। খুনিরা তুহিনের পেটে ছোড়া ঢুকিয়ে বাড়ির পাশে কদম গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। ওই দিনই দুপুরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিনের বাবা, তিন চাচা, তুহিনের চাচি ও চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সাহারুল এবং চাচাতো বোনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পায় পুলিশ।
এ ঘটনায় তুহিনের মা মনিরা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। এরপর পুলিশ তুহিনের বাবা আবদুল বাছির, চাচা নাসির উদ্দিন, আবদুল মছব্বির ও জমসেদ আলী এবং চাচাতো ভাই সাহারুল ওরফে শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ আবদুল বাছির, নাসির উদ্দিন ও সাহারুলকে রিমান্ডে নেয়। পরে চাচা নাসির উদ্দিন ও সাহারুল আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশের তদন্তে এই পাঁচজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার তিন দিন আগে আসামিরা এই হত্যার পরিকল্পনা করেন।
