ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির দাফনের সময় শোক মিছিলে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ'র বরাত দিয়ে এই খবর দিয়েছে রয়টার্স
মঙ্গলবার সকালে সোলেইমানির মরদেহ রাজধানী তেহরান থেকে কেরমানে আনা হয়। এ সময় পুরো শহরের মানুষ শোকে ভেঙে পড়ে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তারা।
লাখ লাখ মানুষের এই শোক মিছিল একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে মিছিলে পদদলিত হন অনেকে। এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪৮ জন।
গত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল সোলেইমানি। তিনি ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন।
ইসরায়েলি হামলা ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে হামাসকে সহায়তা দিত সোলেইমানির কুদস বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন শক্তি ও ইসরায়েলের আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন এই ইরানি জেনারেল। এ ছাড়া সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ সরকারকে সহায়তা ও আইএস নিধনে ভূমিকা রাখেন তিনি।
ওই হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।
সোমবার তেহরানে সোলেইমানির জানাজা পড়ান দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। জানাজা পড়াতে গিয়ে কান্না ভেঙে পড়েন তিনিসহ উপস্থিত শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তারা। জানাজায় অংশ নিতে মানুষের মিছিলে পুরো তেহরান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রবিবার সকালে আহভাজ শহরে সোলেইমানির মৃতদেহ পৌঁছায়। সেখানে তার প্রতি শোক জানাতে আসা মানুষের সমাবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক মিছিলে পরিণত হয়। তারা সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস’ চেয়ে স্লোগান দেয়।
শনিবার ইরাকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষ ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে। সেখানেও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু’ চেয়ে স্লোগান দেয় তারা।
