দুই বোনকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা এবং ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে আলমগীর খাঁ (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার বিকেলে র্যাব-১১ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন পিপিএম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কাটাকুশিয়া এলাকার এলাহী নেওয়াজ খাঁর ছেলে।
র্যাব-১১ মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন পিপিএম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর ২০১২ সালে কচুক্ষেতের একটি দোকানে চাকরি নেয়। সেখানে চাকরির সময়ে সে সেনা বাহিনীর ভুয়া আইডি কার্ড ও ট্রাউজার সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে সে বিভিন্ন সময়ে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও র্যাব-এর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করত।
তিনি আরও জানান, আলমগীর সেনা সদস্য হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ফেসবুক আইডি খুলে ভুক্তভোগী দুই বোনের সঙ্গে খাতির জমিয়ে তাদের বাড়িতে কৌশলে আশ্রয় নেয়। দুই বোনই স্থানীয় একটি হাইস্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। সেখানে অবস্থানকালে তাদের বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে এবং ২৫ ডিসেম্বর তাদের ধর্ষণের চেষ্টা করে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য তাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি হতে চলে যায়।
পরবর্তীতে আলমগীর তাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং তার কথামতো ঘুরতে না গেলে আপত্তিকর ছবি ফেইসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। আলমগীর গত ৩০ ডিসেম্বর দুই বোনকে কৌশলে অপহরণপূর্বক ব্লেকমেইল করে তাদেরকে ঢাকা থেকে কীর্তনখোলা লঞ্চের কেবিনে উঠিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা করে। রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে আলমগীর লঞ্চের কেবিনে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাদের মারধর ও হত্যা করার চেষ্টা করে।
পরদিন ভোরে দুই বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দুই বোনকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়।
উক্ত ঘটনায় ওই দুই বোনের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পায় র্যাব-১১। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি বর্ণিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
