অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষেরা ক্ষণজন্মা এরা বেশি দিন বাঁচে না।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরঝিলের এমফিথিয়েটারে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ(ইআরডি) আয়োজিত 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এক আনন্দ উৎসবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি একযোগে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসব পালন ও বর্ণিল আতশবাজি করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের একটাই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলেই দেশ উন্নত হবে। বঙ্গবন্ধুর মতো মানুষেরা ক্ষণজন্মা এরা বেশি দিন বাঁচে না। বঙ্গবন্ধু আমাদের একটা স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। আমাদের নিজস্ব পরিচয় দিয়েছেন। দেশের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনার সূচনা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই। তার হাত ধরেই সংবিধান পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু কবির মতো দেশের সকল উন্নয়ন সাজিয়েছেন। তিনি আমাদের মুক্তির কবি ছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জীবনে বেদনার দিন একটাই বঙ্গবন্ধুকে হারাতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া কাজ সম্পন্ন করতে হবে।জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর একটাই লক্ষ্যে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে অনেক স্বপ্ন এখন বাস্তব হয়ে আমাদের সামনে উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য অনুযায়ী সবকিছু বাস্তবায়ন করবো। ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আমাদের অনেক ঋণ। মুক্তিযুদ্ধে ২ লাখ মা বোন সবকিছু হারিয়েছেন। তাদের ঋণ পরিশোধ কখনো হবে না। তারপরও দেশের উন্নয়ন করলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে। বঙ্গবন্ধুকে সব সময় স্মরণ করতে হবে।
বঙ্গবন্ধু যেন হাজার বছর আমাদের সামনে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো থাকে। বঙ্গবন্ধুকে আমাদের মধ্যে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান করবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ টপ-২০ এর মধ্যে চলে আসবে। আপনারা এই হিসাব আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন।’
মন্ত্রী বলেন, ২০৩১ সালে বাংলাদেশ তাইওয়ানকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০৪১ সালে সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। বর্তমানে ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩০ নম্বরে অবস্থান করছে। ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ২৪ তম অর্থনীতির দেশ হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের(ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি। যিনি বিশ্ব দরবারে আমাদের দিয়েছেন একটা ভূখণ্ড, একটি পতাকা, একটি মানচিত্র ও আমাদের পরিচয়। তিনি জন্ম নিয়েছিলেন বলেই জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ক্ষণজন্মার জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখেই ইআরডির পক্ষ থেকে আমাদের এই আয়োজন। তৃণমূল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ স্বত:স্ফূর্তভাবে উদ্যাপনের জন্য আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক অনন্য সত্তা। এককে বাদ দিয়ে অন্যকে কল্পনা করাও অসম্ভব। আমাদের আজকের যে উন্নয়ন, তা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই তার সুযোগ্য কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করছেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) সাহিন আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।
