ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রাজ্জাক খানের সঙ্গে একটি গবেষণা কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)। পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই পিআইবি চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই শিক্ষক।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর পিআইবির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে চুক্তিভঙ্গের জন্য দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
আবদুর রাজ্জাক খান প্রেরিত চিঠি থেকে জানা গেছে, পিআইবির গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগের হাতে নেওয়া ‘রাজনীতিতে সংবাদ-এর ভূমিকা: ১৯৫১-৭০’ শীর্ষক গবেষণা কাজে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ তাকে আমন্ত্রণ জানায়।
পরবর্তীতে পিআইবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। এই চুক্তির কারণে তিনি একটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থার কাজে অসম্মতি প্রকাশ করেন, যার পারিশ্রমিক ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন ডলার। এরপর পিআইবি কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের গবেষণার কাজটি বন্ধ করে দেয় যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
এ ছাড়া ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের কারণে পিআইবির গবেষণা বিশেষজ্ঞ ড. কামরুল হক এবং গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক আকতার হোসেনকে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ড. আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, একই বিষয়ে আরেকটি গবেষণা পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার বিভাগেরই সহকর্মী অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। যেই গবেষণা কাজটি এখনো চলছে। কিন্তু আমার গবেষণা কাজটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, পিআইবিতে একটি প্রতিক্রিয়াশীল দুষ্টচক্র সব সময় সক্রিয় আছে। এই চক্রই সব নষ্টের মূল।
পিআইবির গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক আকতার হোসেন বলেন, গবেষণা কাজটির জন্য ওইসময় আমাদের তথ্য সংগ্রহকারী পাওয়া যায়নি। যার জন্য গবেষণা কাজটি ওই সময় বন্ধ ছিল, আর আমাদের ফান্ডেরও সংকট ছিল। তবে এইটা এই অর্থবছরে হবে। আমরা খুব শিগগিরই তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ করবো এবং ওনাকে (ড. রাজ্জাক) অবহিত করবো।
গবেষণা বিশেষজ্ঞ ড. কামরুল হক বলেন, পিআইবির এই গবেষণা কাজটির সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না। এরপরও কেন তিনি আমার নাম জড়ালেন তা আমি জানি না।
এ বিষয়ে পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বলেছেন, পিআইবি এই বিষয়ে ড. রাজ্জাকের চিঠির উত্তর দিবেন।
