দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও পত্রিকাটির সহযোগী প্রকাশনা কিশোর আলো'র সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার একটি আদালত।
ঢাকায় কিশোর আলোর একটি অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় এ আদেশ দেয় আদালত।
প্রথম আলোর পক্ষের একজন আইনজীবী বিবিসি বাংলার কাছে আদালতের এ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১ নভেম্বর ঢাকার রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে প্রথম আলোর কিশোর ম্যাগাজিন 'কিশোর আলো'র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো। ওই অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলো স্কুলটির নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরার।
ঘটনার পরদিন তার বাবা মজিবুর রহমান মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন যাতে তার সন্তানকে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনেন প্রথম আলো সম্পাদকসহ অনুষ্ঠান আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে।
কিশোর আলো সম্পাদক তখন জানান, অনুষ্ঠানে প্রত্যেক দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিলো। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পুলিশ, র্যাব ও দুটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা সেখানে ছিলেন। এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসা শিবির ছিলো যাতে দুজন এফসিপিএস চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। আইসিইউ সুবিধা সংবলিত অ্যাম্বুলেন্সও রাখা ছিলো। বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে নাঈমুল আবরার কেমন করে এলো, সেখানে কোনো ত্রুটি ছিলো কি-না, তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তে কিশোর আলো সহায়তা করছে।
ওদিকে আবরারের বাবার দায়ের করা মামলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত।
এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ যাতে মতিউর রহমান ও আনিসুল হকসহ দশজনকে আসামি করা হয়।
প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আদালত দশজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
যাদের নামে পরোয়ানা দেওয়ার আদেশ হয়েছে তারা হলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, কবির বকুল, শুভাশিস প্রামাণিক, মহিতুল আলম, শাহ পরাণ তুষার, জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার।
