বন্যার পানিতে ধসে পড়া ব্রিজ নির্মাণ হয়নি দুই বছর পেরিয়ে গেলেও। কর্তৃপক্ষ বারবার ব্রিজটি দেখে এলাকাবাসীকে আশ^স্ত করলেও কোনো ধরনের উপকার পায়নি এলাকাবাসী। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষজনকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ভুল্লীরহাট এলাকায় করতোয়া নদীর শাখা ভুল্লী নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। দুই জেলার কয়েকটি উপজেলা ও নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের কয়েক হাজার মানুষ এই পথে চলাচল করে। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভুল্লী নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে যায়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দিনাজপুর-৪ আসনের সাংসদ আবুল হাসান মাহমুদ আলী ব্রিজটি দেখে নির্মাণের কথা বললেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে দুই জেলার হাজার হাজার মানুষ।
ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যস্ততম রাস্তা হওয়ায় প্রতিনিয়তই চলাচল করছে যানবাহন। আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ভুল্লীরহাট এলাকার মো. আবদুল করিম আলী বলেন, ‘ভুল্লী নদীর ওপর ব্রিজটি দুই বছর আগে ভেঙে গেছে। অনেক নেতা ভাঙা ব্রিজ দেখে গেছে কিন্তু এখনো ব্রিজটি নির্মাণ করেনি। ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় অন্যের ফসলি জমির ওপর দিয়ে আমরা চলাচল করছি। আমাদের দাবি, ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা হোক।’
একই এলাকার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিজটি এত দিনেও নির্মাণ হয়নি। বন্যা হওয়ার দুই বছর পার হয়েছে কিন্তু আমাদের ভোগান্তি কমল না। অনেক নেতা এখানে এসে ব্রিজটি নির্মাণ করার কথা বলে গেছেন কিন্তু এখনো ব্রিজটি নির্মাণ হয়নি। ব্রিজ না থাকায় দুই জেলার হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
স্বামীর ভ্যান ঠেলে দিচ্ছেন মোছা. রিক্তা বেগম। তিনি বলেন, ‘সবাই দেখি যায় কিন্তু ব্রিজখান আইজও ঠিক হয় না। হামার কষ্ট দুই বছরেও শেষ হয়নি। হামার দাবি, ব্রিজখান তাড়াতাড়ি হোক।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুল্লীরহাট এলাকায় ভুল্লী নদীর ওপর ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও সেটি ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে ওই এলাকার মানুষ অন্যের ফসলি জমি দিয়ে চলাচল করছে। জমির মালিক আবদুল কাদের বলেন, ‘ব্রিজটি ভাঙার পর একটি বাঁশের সাঁকো আমরা দিয়েছি কিন্তু শুকনো মৌসুমে সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করি না। এই রাস্তা দিয়ে বেশি লোকের চলাচল থাকায় সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। এ জন্যই আমার জমির ওপর দিয়ে এখন চলাচল করছে। এর ফলে আমার জমির ফসলের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা প্রকৌশলী সুবীর কুমার সরকার বলেন, ‘ব্রিজটি যদিও এলজিইডির নয়, কিন্তু ব্রিজের দুই পাশের রাস্তাটি এলজিইডির হওয়ায় ব্রিজটি আমরা তৈরির জন্য ইতিমধ্যে প্রজেক্ট পাঠিয়েছি। এখন প্রজেক্ট পাস হয়ে এলেই ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’
