কুবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ছাত্রী সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:২২ পিএম

যৌন হয়রানির অভিযোগের পর ছাত্রীকে সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য ও বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি-ধমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত শিক্ষককে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে রবিবার কুমিল্লা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত শিক্ষক অভিযোগকারী ছাত্রী সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী। এ ছাড়া, সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রী সম্পর্কে অভিযুক্ত শিক্ষকের অশ্লীল মন্তব্য করা ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অনেক সদস্য।

জানা যায়, গত বুধবার কুবির ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান তালুকদারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ তোলেন বিভাগটির সান্ধ্য কোর্সের এক শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, ইংরেজি বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেল বরাবর অভিযোগটি লিখিত আকারে দেন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে, অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টিকে বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে একজন শিক্ষকের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রী সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আলী রেজওয়ান বলেন, ‘আমি এ জন্যই বলতে পারি যে, সেই শিক্ষার্থী আমার বিরুদ্ধে এমন নোংরা অভিযোগ করেছে তার প্রেক্ষিতে। এটার ডকুমেন্টস আছে।’

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক তার বন্ধুবান্ধবসহ কুমিল্লার পরিচিতজনদের দিয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে নানা ধরনের হুমকি এবং সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর শ্বশুরবাড়িতে বিষয়টি অন্যভাবে উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন সেলের অধীনে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুন নাহার শীলাকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আলী রেজওয়ানকে সান্ধ্য কোর্সের সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, এক ছাত্রীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে উপাচার্যের সাথে কথা বলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষকে সান্ধ্য কোর্সের সকল ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত