৩৫ বছর বয়সেই তিনি নেভি অফিসার, চিকিৎসক, গণিতবিদ, নাসার বিজ্ঞানী!

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:১৪ পিএম

ত্রিশোর্ধ্ব বয়স তার, এর মধ্যে এত পেশা ও সাফল্যের সমাহার তার মধ্যে। একাধারে তিনি মার্কিন নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা, গণিতবিদ, চিকিৎসক আবার নাসার বিজ্ঞানীও। তিনি দক্ষিণ কোরিয়া বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জনি কিম।

বিজনেস ইনসাইডার জানায়, ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে কিমের জন্ম। ছেলে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আশির দশকের শুরুতে উত্তর কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়িয়ে জমিয়েছিলেন তার বাবা-মা। কিমের অল্প শিক্ষিত বাবা খুলেছিলেন মদের দোকান। আর মা বেছে নেন স্কুলের শিক্ষকতাকে। 

২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগো থেকে গণিতের ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি নেন কিম। তবে এর আগে স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েই ২০০২ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাহিনী নেভি সিলের সদস্য হন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে দুইবার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে তিনি ওষুধ সরবরাহকারী, স্নাইপার, নেভিগেটর এবং পয়েন্ট ম্যান হিসেবে শতাধিক মিশনে অংশ নেন। তিনি সিলভার স্টার, ব্রোঞ্জ স্টার, নেভি অ্যান্ড মেরিন কর্পস কমেন্ডেশন মেডেল পান। নেভিতে লেফটেন্যান্ট-এর পদমর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি।

২০১২ সালে সান ডিয়েগো থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষে নৌবাহিনীর মেডিকেল টিমে যোগ  দেন। তারপর ২০১৬ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৭ সালে তিনি মেডিকেল ইন্টার্নশিপ সম্পূর্ণ করেন।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে পড়ার সময়ই কিমের সঙ্গে পরিচয় হয় নভোচারী স্কট ই.প্যারাজিনস্কির। এই নভোচারী ছিলেন একজন চিকিৎসকও। তিনিই কিমকে নাসার স্কুলে আবেদন করার কথা জানিয়েছিলেন।

কিমও অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্দেশে নাসায় আবেদন করেন। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সেই স্কুলে ১৮ হাজার ৩০০ আবেদনের মধ্যে টিকে যান কিম। ২০১৭ সালে নাসার স্কুলের সুযোগ পাওয়া মাত্র ১৩ জনের একজন ছিলেন অসাধারণ মেধাবী এই তরুণ।

সে বছরই তিনি নাসায় যোগ দেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি নাসা স্কুল থেকে স্নাতক হন। বর্তমানে কিমের বয়স ৩৫ বছর। এই বয়সেই মার্কিন নৌ কর্মকর্তা থেকে তিনি হয়ে গিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানী। মাঝখানে গণিতবিদ আর চিকিৎসকও ছিলেন তিনি। এখন মহাকাশে পাড়ি দেয়ার অপেক্ষা করছেন কিম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত