চুয়াডাঙ্গায় রাতে সড়কে গাছ ফেলে যানবাহনে ডাকাতি

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪১ এএম

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার টেইপুর-ঝোড়াঘাটা সড়কে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এক ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে ২০/২৫ জনের কাছ থেকে লুটে নেয় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ততক্ষণে নিরাপদ স্থানে ডাকাত সদস্যরা।

পরে ডাকাত সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ রাতভর অভিযান চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ডাকাতির কবলে পড়া আনছার আলী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ গ্রাম পীরপুরে যাচ্ছিলাম। সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে টেইপুর-ঝোড়াঘাটা সড়কের টেইপুর মাঠে পৌঁছালে ৭/৮ জনের সশস্ত্র একটি ডাকাত দল সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়।

এরপর আমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

আনছার আলীর বর্ণনামতে, ডাকাতির সময় ওই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল চালক, আলমসাধুর যাত্রী, সাইকেল চালক এ রকম ২৫ থেকে ৩০ জনের কাছ থেকে ডাকাত সদস্যরা লুট করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে ডাকাত সদস্যদের এ তাণ্ডব।

ডাকাতির শিকার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আক্তাউর রহমান মুকুল বলেন, সন্ধ্যায় ওই সড়কে আমিও আমার এক বন্ধু ডাকাতির কবলে পড়ি। ডাকাত সদস্যরা প্রথমে আমাকে র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে ফেনসিডিলের একটি চালান আটকের জন্য অবস্থান করছেন বলে জানান।

কথা বলার একপর্যায়ে পাশের জঙ্গল থেকে হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পরিহিত ৪/৫ জন আমাদের দুজনকে জিম্মি করে আমার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা ও আমার বন্ধুর কাছে থাকা ৪৮ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

প্রায় এক ঘণ্টা পর ডাকাতির জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে ডাকাত সদস্যদের অবস্থান নিরাপদ স্থানে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই টেইপুর-ঝোড়াঘাটা সড়কে টহল পুলিশ ডিউটি করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওই সড়কে পুলিশের কোনো টহল দেখা যায়নি। পরে রাতভর ডাকাত সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালালেও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খাঁন জানান, এটি গণডাাকতি বলা ঠিক হবে না। রাস্তায় গাছ ফেলে কয়েকজন ছিনতাইকারী গতিরোধ করে ফেনসিডিল উদ্ধারের নামে কয়েকজনের কাছ থেকে কিছু টাকা-পয়সা কেড়ে নিয়েছে। আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি। খুব শিগগিরই ওই ছিনতাইকারীরা আইনের আওতায় আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত