গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫১ পিএম

গর্ভবতী নারী ও অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় গর্ভজাত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে চলতি সপ্তাহে এর ওপর শুনানি হবে বলে জানান তিনি।

আইনজীবী ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষ ছেলে সন্তান কামনা করেন। এখনো কোনো কোনো পরিবারে গর্ভবতী নারীর কন্যা শিশু হবে শুনলে ওই পরিবার গর্ভবতী মায়ের ঠিকমতো যত্ন নেয় না। এতে করে ওই নারী ও অনাগত শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। আর যদি কোনো দম্পতির এর আগে একটি বা দুটি কন্যা সন্তান থাকে এবং পরবর্তীতে আবারও কন্যা সন্তান হওয়ার খবর পান তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

 তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে অপরিণত শিশু জন্মের দিক থেকে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে। এর অন্যতম কারণ শুধুমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ার খবর শুনে গর্ভবতী মায়ের যত্ন কম নেয়া, কিংবা মানসিক অবসাদ বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানা বন্ধ করা যায় তাহলে গর্ভবতীদের মানসিক অবসাদ কমে আসবে। পরিণত শিশুর জন্ম হবে। চীন- ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মের আগে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই গর্ভজাত মা ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতে শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া উচিত।  

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, গর্ভে থাকা শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও নীতিমালা চেয়ে গত ১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সাতজনের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। জবাব না পেয়ে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি হলো।

 আবেদনে গর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুল চাওয়ার পাশাপাশি নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সকল সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ধরনের পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত