পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের মূল হোতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৪ পিএম

মশিউর রহমান পাপ্পু একজন ইঞ্জিনিয়ার। চাকরি করতেন একটি বড় কোম্পানিতে। স্ত্রী যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টারি পড়ছেন। বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। চার ভাইয়ের মধ্যে একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। আরেক ভাই ঢাকায় ব্রিটিশ ল শেষ করেছেন, ব্যারিস্টারি পড়তে যাবেন যুক্তরাজ্যে। সবার ছোট ভাই সম্প্রতি বুয়েট থেকে পাস করেছেন। তিনি নিজেও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) পাস করেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কিন্তু সব ছেড়ে এখন অপহরণ, ছিনতাই আর চাঁদাবাজি করে বেড়ায়।

গত ৪ জানুয়ারি পুলিশের পোশাকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে একটি গাড়ি থামায় চার যুবক। পরে গাড়ির কাগজপত্র দেখে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মালিক নোমানকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। কিন্তু গাড়ি চালক দেলোয়ারের সন্দেহ হয় পুলিশের পোশাক পড়া ৪ জনকে নিয়ে। পথে ভূইগড় এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে গাড়িটির। এ সময় গাড়ির চালক চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চার যুবকের তিনজন পালিয়ে গেলেও একজনকে আটক করতে সক্ষম হয় স্থানীয় জনতা।

খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনটি খেলনা পিস্তল ও দুটি ওয়্যারলেসসহ পুলিশের পোশাক পরা শামীমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। গ্রেপ্তার  শামীমের পরনে ছিল ডিএমপির পোশাক। সে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের কারাগারে। এ ঘটনার মূল হোতা মশিউর রহমান পাপ্পু (৩৪)।

জানা গেছে, ২১ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের মিনার মসজিদ এলাকা থেকে ধানমন্ডির একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এ লেভেল পড়ুয়া দিবস ও ধ্রুব নামে দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের পরিবারের কাছ থেকে দাবি করা হয় মুক্তপণ। এ ঘটনায় মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ডেমরা ও ফকিরাপুল এলাকা থেকে অপহরণ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অপহরণ কাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার, ৩টি মোটরসাইকেল, ম্যাগাজিনসহ ১টি পিস্তল, ৫টি ডিএমপির ডিবি পুলিশের পোশাক (জ্যাকেট), ডিএমপির পুলিশ সার্জেন্টের র‌্যাঙ্কব্যাজসহ ১টি ইউনিফর্ম শার্ট এবং পুলিশ কনস্টেবল পদমর্যাদার ১টি শার্ট, ৭টি স্টিলের লাঠি, ৩টি কালো রঙের ছোট-বড় ওয়্যারলেস সেট, ৪টি পিস্তল-সদৃশ লাইটার, ৫টি সিরিঞ্জ, ২০টি ইনজেকশন, ১ সেট সেনাবাহিনীর পোশাক তৈরির থান কাপড়, ১৫টি বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল সেট (সিম সংযুক্ত) এবং ১টি আইপ্যাড।

গ্রেপ্তার পাপ্পু ও তার সাত সহযোগী হলো মাহমুদুর রহমান রাসেল ওরফে রচি (৩০), রশিদুজ্জামান ওরফে তুষার (৩২), শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি (৩২), ইমতিয়াজ আহমেদ (২৮), আরিফুল ইসলাম ওরফে নিশান (৩২), ফকর উদ্দিন (২৪) ও আবদুল্লাহ আল নোমান (৩০)।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে পাপ্পু জানিয়েছে, তার স্ত্রীর দূরসম্পর্কের খালাতো ভাই নোমানের গাড়িটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে সে। গাড়িটি ছিনতাইয়ের আগে তার লোকজন নোমানকে বেশ কয়েক দিন অনুসরণ করে। এ জন্য সে পাঁচটি জিপিআরএস কেনে। তার সহযোগীরা নোমানের গাড়িতে একাধিকবার জিপিআরএস লাগিয়েছিল। কিন্তু ব্যাটারির চার্জ শেষ হওয়ায় সেগুলো দিয়ে ট্র্যাক করতে পারেনি। পরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই অনুসরণ করে গাড়িটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল।

তবে নারায়ণগঞ্জে গাড়ি ছিনতাই করতে এসে ধরা না খেলেও এবার ইংলিশ মিডিয়ামের এক ছাত্রসহ দুই তরুণকে অপহরণের ঘটনায় আটক হয় তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ পাপ্পু। সে সংঘবদ্ধভাবে ঢাকা- নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ করে বেড়াতো। তার দলে রয়েছে ১০-১২ জন সক্রিয় সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত