চীনে পড়তে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভারতের এক বাঙালি চিকিৎসক। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আতঙ্কে গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন তিনি। দিন কাটছে সবজি এবং ফল সেদ্ধ খেয়ে!
ওই গবেষকের নাম সাম্যকুমার রায়। বাড়ি বর্ধমানের কালীবাজার। মেধাবী এই ছাত্র বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে গণিত নিয়ে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে স্নাতক হন তিনি। এরপর আইআইএসসি, বেঙ্গালুরুতে স্নাতকোত্তর এবং আইআইটি, কানপুর থেকে পিএইচডি শেষ করেন। পোস্ট ডক্টরেটের জন্য পরীক্ষা দিয়ে চলে যান চিনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত মার্চ মাস থেকে গবেষণায় যোগ দেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাম্য টেলিফোনে বলেন, ‘এমনিতে এখানে এখন বেশ ঠান্ডা। তাপমাত্রা মাইনাস ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ফলে ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি হচ্ছে নাকি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এসব হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।’
‘হোস্টেলে ঘরের মধ্যেই বসে থাকতে হচ্ছে। ক্যান্টিনে খেতে যেতে পারছি না। কারণ, ওখানের খাবার থেকে যদি সংক্রমণ হয়ে যায়, সেই আশঙ্কা আছে। আমি একদম কাছের একটা মার্কেট থেকে সবজি, ফল কিনে তা ঘরে এনে সিদ্ধ করে খাচ্ছি। এভাবেই খিদে মেটাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে একা ঘরে এক সপ্তাহ ধরে বন্দি থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়ব। এখন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাইছি। দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে আমাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু কবে সেই সাহায্য পাব, জানি না।’
রহস্যময় এই করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ১০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ!
ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কেন্দ্র হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কয়েকটি শহরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ৪১ জন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জার্মানি।
করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।
