শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ফিলিস্তিনিদের ‘নির্বোধ’ বললেন ট্রাম্প জামাতা

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৫২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় ফিলিস্তিনিদের ‘নির্বোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনার। তার মতে, পরিকল্পনাটি দেখার আগেই ফিলিস্তিনিরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে কুশনার বলেন, ‘এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র ও ধারাবাহিক অঞ্চল পাওয়ার একটি পন্থা। এটির মাধ্যমে তারা স্বাধীনতা অর্জন করতে পারবে।’

মধ্যপ্রাচ্যের অগ্রগতিতে এই পরিকল্পনায় যুক্ত হলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভাগীদারও হবে ফিলিস্তিনি না, এমনটা দাবি করেন তিনি।  

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে নিয়ে ট্রাম্প ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত শান্তি পরিকল্পনাটি ঘোষণা করেন। ইহুদি ধর্মাবলম্বী কুশনারকে এই প্রস্তাবনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বলা হয়ে থাকে।

পরিকল্পনাটিতে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের অবিচ্ছেদ্য রাজধানী রাখার অঙ্গীকার আছে। এতে ট্রাম্প একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রেরও প্রস্তাব করেছেন এবং পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়ার পরিকল্পনাও রেখেছেন।

কুশনার বলেন, ‘পরিকল্পনাটি দেখার আগেই ফিলিস্তিনিরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা চিন্তা করছে, এটি তাদের জন্য ভালো হবে না। আমি মনে করছি, তারা আজ নির্বোধের মতো আচরণ করছে। আবার সবচেয়ে বিদ্রূপের বিষয় হচ্ছে, তারা আবার একটি রাষ্ট্রও চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় একটি সুযোগ এবং অতীতের সব ধরনের সুযোগ উড়িয়ে দেয়ার রেকর্ড তাদের মধ্যে আছে।’

তবে ফিলিস্তিনিদের দাবি, এই পরিকল্পনাতে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রের সংকল্প প্রতিফলিত হয়নি। এ ছাড়া জেরুজালেমকেও তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের ওপর ইসরায়েলের দখলদারি তাদের ওপর আরও চূড়ান্ত রূপ নেবে। 

এদিকে মার্কিন আইনপ্রণেতারাও ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শীর্ষ রাজনীতিবিদ বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘ইসরায়েলি দখলদারির অবশ্যই অবসান ঘটাতে হবে এবং নিরাপদ ইসরায়েল রাষ্ট্রের পাশে ফিলিস্তিনিদের তাদের সংকল্পিত নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু সেটির কাছাকাছিই নেই ট্রাম্পের এই তথাকথিত শান্তি চুক্তি। এটি কেবল সংঘাতকে চিরস্থায়ী করবে। এটি অগ্রহণযোগ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত