বাঘাইছড়িতে দেশি-বিদেশি পাঁচ জাতের কুকুর নিয়ে ক্যানেল

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬:৫০ পিএম

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার এক গ্রামে বিরল প্রজাতির কুকুর নিয়ে ক্যানেল গড়ে তুলেছেন বড় চাকমা নামে এক যুবক। তার এই ক্যানেলে পাঁচ প্রজাতির ২৬ টি কুকুর রয়েছে। ডগ ক্যানেল বলতে কুকুরের জন্য তৈরি ঘরকে বোঝানো হয়।

উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের মগবান গ্রামের বড় চাকমা শখের বশে ছোট বেলা থেকেই কুকুর পালন করলেও ২০১৭ সালের প্রথম দিকে কুকুরের এই ক্যানেল তৈরি করেন।

উপজেলা সদর হতে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে এই ব্যতিক্রমধর্মী ক্যানেলটি অবস্থিত। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকমা ক্যানেল’।

ক্যানেলের উদ্যোক্তা বড় চাকমা জানান, ছোট কাল থেকে কুকুরে প্রতি ভীষণ দুর্বলতা ছিল। তখন থেকে শখের বশে কুকুর পুষতাম। শখের এই ক্যানেলে পাঁচ জাতের কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান জাতের ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই, জার্মান শেফার্ড, পাকিস্তানি জাতের বোলি কুত্তা ও দেশের সরাইল।

ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই রাশিয়ার সৈন্যরা বন্দীদের পাহারা দেয়ার কাজে ব্যবহার করে। এ ছাড়াও ককেশাস অঞ্চলে ভেড়ার খামারিরা নেকড়ে থেকে ভেড়াকে রক্ষার জন্য ককেশিয়ান শেফার্ড কুকুর ব্যবহার করে। এই দুই জাতের কুকুর খুবই হিংস্র। পাকিস্তানি জাতের বোলি কুত্তার মূল আবাসস্থল পাঞ্জাব। ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর এই imageকুকুরগুলোকে ইন্ডিয়ান ম্যাসটিফ ও পাকিস্তান ম্যাসটিফ নামে ডাকা হয়। আর সরাইল হন্ড বাংলাদেশি জাতের হলেও বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ কুকুরটি খুবই ক্ষিপ্রগতি সম্পন্ন ও সাহসী।

ক্যানেলে কুকুর গুলিতে খাঁচায় বন্দী করে রাখা হলেও দৈনিক দুই বা তিনবার নির্দিষ্ট ঘেরার ভেতরে খেলাধুলার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। বড় চাকমার আপন ছোট ভাই ছোট চাকমা ক্যানেলের দেখা শোনা করেন।

বড় চাকমা বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আছেন। তবে সময় পেলেই বাড়িতে কুকুর গুলির কাছে ছুটে যান।

ঢাকা থেকে সাজেকে ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমিক ফাহিম জামান জানান, বাঘাইছড়িতে কুকুরের ক্যানেলের খবর পেয়ে দেখতে এলাম। বড় চাকমার উদ্যোগটি খুব ভালো লেগেছে। এটি একটি কুকুরের মিনি চিড়িয়াখানার মতো।

স্থানীয়রা জানান, অনেকেই এই কুকুর গুলিতে দেখতে আসেন। এটি এলাকার একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত