ঠাকুরগাঁওয়ে পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত আফজাল হোসেন (৪৫) নামে ওই শ্রমিকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ছ্যাঁকা ও লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নির্যাতনের শিকার হওয়ার তিন দিন পর গত রবিবার রাতে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী আফজালের ভাষ্য, নিজের জমি বিক্রি করে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। নির্যাতিত আফজাল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আফজাল হোসেন জানান, পেশায় তিনি কৃষিশ্রমিক। অসুস্থতার জন্য কিছুদিন ধরে কাজে যেতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে স্ত্রী-সন্তানরা জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু ওই প্রস্তাবে রাজি হননি আফজাল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্যালক আরমান আলীর নির্দেশে স্ত্রী আনোয়ারা, ছেলে আবু বক্কর ও আলমগীর এবং মেয়ে আল্পনা বেশ কিছুদিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।
আফজাল বলেন, ‘তারা (স্ত্রী-সন্তানরা) গত ৩১ তারিখ রাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এর পর আর কিছু মনে নেই। পরে রবিবার জ্ঞান ফিরলেও সকালে বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। বিকেলে অনেক কষ্ট করে বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে একজন প্রতিবেশী শরীরের দাগগুলো দেখে সবাইকে জানায়। পরে তারা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। আমি আর পরিবারে ফিরে যেতে চাই না। নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক মনজুর মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আফজালের বুক ও পিঠের বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে গেছে। এ ছাড়া আঘাতের কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট হয়ে আছে। তার চিকিৎসা চলছে।’
আফজালের প্রতিবেশী ইমান আলী বলেন, ‘আফজালের সঙ্গে অমানবিক কাজ করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন হয়ে গেলেও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। আফজালকে এমন ভয় দেখানো হয়েছে, সে আশপাশেরও কাউকেও ঘটনা জানানোর সাহস পায়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
এদিকে আফজালকে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তার ছেলে আলমগীর পলাতক। আফজালকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তার শ্যালক আরমান, স্ত্রী আনোয়ারা ও মেয়ে আল্পনা কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
আফজালকে নির্যাতনের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দাখিল করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
