করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সোমবার পর্যন্ত বিশ হাজার ছাড়িয়েছে, মারা গেছেন ৪২৫ জন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এই বিপর্যয় মোকাবিলায় নিজেদের ভুল ও ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এর মধ্যে বন্যপ্রাণীর বাজারে বড় ধরণের অভিযান চালানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্যা পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি বলেছে, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের আরও উন্নতি করতে হবে। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
এখানে বলা হয়েছে, এ ঘটনা চীনের সরকারি সিস্টেমের জন্য একটি ‘বিগ টেস্ট’, যা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
রিপোর্টে বলা হয়, “মহামারি মোকাবিলায় ভুলত্রুটি আর ঘাটতি চোখে পড়েছে। আমাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত করতে হবে এবং জরুরি বিপজ্জনক কাজগুলো মোকাবিলায় আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।”
একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এ জন্য বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে।
মনে করা হয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।
উহান তাই এখনো সরকারি পদক্ষেপে অগ্রাধিকার পাবে এবং সেখানে আরও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো হবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মহামারি প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। যারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এর মধ্যে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক কিশোরের মৃত্যুর পর দুজন কর্মকর্তাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ওই কিশোরের বাবাকে করোনাভাইরাস সন্দেহভাজন হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার পর ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। বাবা ছাড়া তাকে দেখভালের আর কেউ ছিল না।
উহানে দ্রুততার সঙ্গে দুটি নতুন হাসপাতাল করা হয়েছে, যদিও সেগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করেনি।
ওই প্রদেশের সব মানুষের জন্যই মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে উপকরণ সংকট আছে এবং সে জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
একজন মুখপাত্র বলেছেন, “চীনের এ মুহূর্তে জরুরিভাবে মেডিকেল মাস্ক, প্রটেকটিভ স্যুট ও নিরাপত্তা চশমা দরকার।”
ওদিকে সাংহাইয়ের মতো কিছু শহরে নতুন বছরের ছুটি বাড়ানো হয়েছে, বন্ধ আছে স্কুলও। আবার হংকংয়ে পনেরো জন আক্রান্ত হওয়ার পর চীনের সঙ্গে ১৩টি সীমান্ত পথের দশটিই বন্ধ করে দিয়েছে।
এ দিকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য,কানাডা, ফ্রান্স ও ইতালি) স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা সোমবার বৈঠকে মিলিত হন। জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তারা ভ্রমণ বিধিনিষেধ, ভাইরাল গবেষণা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
অনেক দেশ চীনের আক্রান্ত এলাকা থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিয়েছে। নিজের নাগরিকদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও চীন একে অতিরিক্ত আখ্যায়িত করে দেশটির বিরুদ্ধে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ করেছে।
