পরকীয়ার জেরে রংমিস্ত্রির গলা কেটে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:৫৩ পিএম

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় গলা কেটে হত্যার পর সেলিম প্রামাণিক (৩২) নামে এক রংমিস্ত্রির মরদেহ আগুনে পোড়ানোর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এক নারী ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, নিহত রংমিস্ত্রির লাশ উদ্ধারের তিন দিনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বড়কোল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান (৫০) এবং তার মেয়ে সৌদি আরব প্রবাসী ইকরামুল ইসলামের স্ত্রী রুপালি বেগম (২৪)।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়া-জয়পুরহাট জেলার সীমান্ত এলাকার বড়কোল গ্রামের মাঠ থেকে রং মিস্ত্রি সেলিম প্রামাণিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সেলিম উপজেলার খিদিরপাড়ার কফির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, লাশটি উদ্ধারের পর হত্যা রহস্য উদ্‌ঘাটনে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। প্রথমেই পোড়া লাশের গায়ে লেগে থাকা এক টুকরো কাপড় ও দাঁতের গঠন দেখে নিহতের পরিচয়ের সূত্র পাওয়া যায়। পরে নিহতের পরিবার লাশ শনাক্ত করে।

নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানেই নিশ্চিত হয় যে পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনার জেরেই খুন হয়েছেন সেলিম। এরপর তার প্রেমিকা রুপালি বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রুপালি ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রুপালি পুলিশের কাছে জানান, নিহত সেলিমের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পারিবারিকভাবে তাদের দু’জনের অন্যত্র বিয়ে হয়। তারপরও মোবাইলে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। রুপালির স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে সেলিম রুপালিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু রুপালি সেলিমকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে সে ক্ষুব্ধ হয় এবং সৌদিপ্রবাসী রুপালির স্বামী ইকরামুলের কাছে তাদের দু’জনের কিছু একান্ত ছবি পাঠায়। বিষয়টি ইকরামুল তার স্ত্রীকে জানানোর পর সেলিমকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করে রুপালি। সে বিষয়টি তার বাবা আব্দুর রহমানকে জানায় এবং সংসার বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে বলে। মেয়ের কথা মতো আব্দুর রহমান ৩ জন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে চুক্তি করে এবং মেয়েকে বিয়েতে রাজি হওয়ার কথা বলে সেলিমকে কৌশলে ডেকে নিতে বলে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এক বান্ধবীর বাড়ি গিয়ে সেলিমকে বিয়ে করবে বলে ডেকে নেয় রুপালি।  সেখান থেকে সেলিমকে নিয়ে রুপালি দুই জেলার সীমান্তবর্তী ওই ফাঁকা মাঠে যায়। মাঠে আগে থেকে অবস্থানরত তার বাবা ও ভাড়াটে খুনিদের কাছে সেলিমকে রেখে রুপালি স্থান ত্যাগ করে। পরে সেখানেই সেলিমকে ওই চারজন মিলে খুন করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরে রুপালির বাবা আব্দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সুপার জানান, ওই লাশ উদ্ধারের পর সেলিমের বাবা কফির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বাবা-মেয়েকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে। ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের ১০দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত