বই চুরি নিয়ে অনেক ধরনের কাহিনির সঙ্গে যেমন আমরা পরিচিত, তেমন এর পক্ষে-বিপক্ষের মতেরও শেষ নেই। গতকাল শেষ হওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা বইমেলায় বই চোর হিসেবে পুলিশের হাতে ধরা পড়া ব্যক্তিকে নিয়ে বিষয়টি আবার সামনে এসেছে।
বই চুরি ঠেকাতে কলকাতা বইমেলায় পুলিশ সিসিটিভি দিয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করে। ফুটেজে ওই ব্যক্তিকে ব্যাগ কাঁধে একটি দোকানে ঢুকতে দেখা যায়।
পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ জানালে সে বই চুরির কথা অস্বীকার করে। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হলে কয়েকটি বইও পাওয়া যায় কিন্তু তার কোনো ক্যাশ মেমো দেখাতে পারেননি। ধরা পড়ে ওই ব্যক্তি কান্নাকাটিও শুরু করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি- বই পড়ার ইচ্ছা থাকলেও কেনার সামর্থ্য নেই বলে বাধ্য হয়েই চুরি করেছেন।
উত্তর শুনে খানিক নরম হলেন পুলিশের লোকজন। কিন্তু বই চুরির আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের সন্দেহের নিরসন ঘটাতেই এর পরে ‘পরীক্ষকের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। বিভিন্ন বাংলা বইয়ের উল্লেখ করে সেগুলির লেখকদের নাম জানতে চাইলেন তিনি। সাম্প্রতিক কয়েক জনের নাম ছাড়া বেশির ভাগ লেখকের নামই ঠিকঠাক বলে দিলেন অভিযুক্ত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একাধিক উপন্যাস থেকে শুরু করে প্রাক্তন এক আমলার বেশ কিছু বইয়ের নামও গড়গড় করে বলে গেলেন তিনি। পুলিশ তখন নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্তের বই পড়ার অভ্যাস রয়েছে।
বইমেলায় এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়লে বই চুরির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কারও কারও বক্তব্য, ‘অনেকেই তো বই কিনে শুধু সাজিয়ে রাখেন, কিন্তু পড়েন না। এই ব্যক্তি চুরি করলেও পড়বেন বলে করেছেন’। কেউ আবার বললেন, ‘কত বড় বড় চুরি হচ্ছে। তাদের টিকি ছোঁয়ার সাহস নেই। একজন বই নিয়েছেন বলে এত কথা হচ্ছে কেন?’
সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বই চুরি বরাবরই ছিল। কিন্তু বই চুরি খারাপ চোখে দেখা হয় না। ধরা পড়লে শাস্তি দেওয়া হয় না। জনসমক্ষে সম্মানহানিও করা হয় না। বইমেলায় বই চুরি করাকে খুব বড় কোনও অপরাধ বলেও মনে করেন না কেউ। ধরা পড়লে বইয়ের দাম নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় কিংবা ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’
সূত্র: আনন্দবাজার
