বাকৃবির নিখোঁজ ছাত্রের ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ছিল, ৫ জঙ্গি গ্রেপ্তার

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২৬ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ ছাত্র শেখ ইফতেখারুল ইসলাম ওরফে আরিফসহ পাঁচজনকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরিফ (২৫) গত ৯ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জিডিও করেছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার পাঁচজন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল-ইসলামের সদস্য। তাদের ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা ছিল।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার ইলিয়াস শরীফ এই তথ্য জানান। রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার বালুর মাঠ থেকে রোববার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- নিজাম উদ্দিন (২১), রায়হান ভূঁইয়া (২০), হানিফ উদ্দিন সুমন (১৯) ও মুফতি মুসলিম উদ্দিন ওরফে মুসলিম (২৭)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, তিনটি ব্যাগ ও চারটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা উগ্রপন্থায় জড়িত এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে তারা।

ইলিয়াস শরীফ বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম, অনলাইন চ্যাট গ্রুপ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করত। একই সঙ্গে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য তারা অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ করত।

তিনি আরও জানান, গত বছরের নভেম্বরে ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ওই জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে তাদের দলনেতা নাজমুল ওরফে উসমান গণি ওরফে আবু আইয়ুব আল আনসারী নামে এক কুয়েত প্রবাসী। নাজমুল উগ্রবাদবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ করায় চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের একজন। সে কুয়েতে থাকা অবস্থায় ‘এসো কাফেলাবদ্ধ হই’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে ওই হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দেয়। এরপর কুয়েত থেকে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার উগ্রবাদীদের সমন্বয়ের চেষ্টা করে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ইসকন মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করে। সিটিটিসির সদস্যরা নাজমুলকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সংগঠনের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে প্রশিক্ষণ নিতে তারা ঢাকায় আসে। নাজমুলের আহ্বানে সাড়া দিয়েই তারা ঢাকায় গোপন বৈঠক করে। এদের সঙ্গে দুবাই প্রবাসী আরও এক উগ্রবাদীর সম্পর্ক রয়েছে যার নাম আবু কায়সার ওরফে রনি। সে এই মুহূর্তে বাংলাদেশেই আছে। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিটিটিসি।

গ্রেপ্তার নিজাম উদ্দিন চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। রায়হান মালয়েশিয়ায় ছিল, কিছুদিন আগে দেশে আসে। হানিফ চট্টগ্রামের একটি শিপ ব্রেকিংয়ে চাকরি করে। মুসলিম উদ্দিন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি মাদ্রাসায় চাকরি করে।

সবুজবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত