আ.লীগ নেতাদের দৌড়ঝাঁপ, কেন্দ্রের দিকে চেয়ে বিএনপি-জামায়াত

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৩:০৪ এএম

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতারা কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আর এ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে আভাস মিলেছে। তবে এ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে অনাগ্রহ লক্ষ করা গেছে। তাদের অনেকের মত এখন নির্বাচন হয় দলের মনোনয়নে, ভোটার কিংবা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের লাগে না।

গত ১০ জানুয়ারি বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ২১ মার্চ এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

গত শনিবার থেকে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে কে হচ্ছেন এই আসনের দলীয় প্রার্থী তা আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর জানা যাবে।

এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহীদের দৌড়ে রয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সদ্য প্রয়াত বাগেরহাট-৪ আসনের সাংসদ ডা. মোজাম্মেল হোসেনের পুত্রবধূ ইসমত শিরীন চৌধুরী সঞ্চিতা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান জনি, জামিল হোসাইন, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নকিব নজিবুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রহিম খান এবং সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রবীর হালদার। এর মধ্যে এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও ইসমত শিরীন চৌধুরী সঞ্চিতা এখনো দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। বাকিরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

নকিব নজিবুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের জন্য আমি কী করেছি তা স্থানীয় নেতারা জানেন। আমি নিজেকে যোগ্য মনে করে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। দলীয় সভাপতি যাকে এই আসনে মনোনয়ন দেবেন আমি তার হয়ে কাজ করব।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুজ্জামান টুকু বলেন, দলের মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা কেন্দ্রে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দল কাকে মনোনয়ন দেবে তা দলের সভাপতি ঠিক করবেন। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা তার জন্য কাজ করব।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সব সময় আমাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে থাকে। আমরা কেন্দ্রকে অবহিত করেছি। বিএনপির সঙ্গে ঐক্য থাকলেও আমরা আলাদা প্রস্তুত আছি। তবে এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। আমরা যেহেতু জনগণের জন্য রাজনীতি করি, তাই নির্বাচনে মাঠে থাকতে চাই।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, এ নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করা হয়েছে। এ আসনে ঐক্যজোটের প্রার্থী দেবে না একক দেবে, তা এখনো কেন্দ্র থেকে জানানো হয়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত