এখনো অপসারণ হয়নি দুই সিটির নির্বাচনী ক্যাম্প

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৯ এএম

দুই সপ্তাহেরও বেশি হলো শেষ হয়েছে ঢাকা দুই সিটির নির্বাচন। অথচ এখনো রয়ে গেছে ফুটপাতে গড়ে তোলা নির্বাচনী ক্যাম্প। পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রার্থীরা ফুটপাতকে অবৈধ দখলমুক্ত করাসহ পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র।

সরেজমিন (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি) দেখা গেছে, ফুটপাতে গড়ে তোলা নির্বাচনী ক্যাম্প এখনো আছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে চলছেন রাস্তা দিয়ে। কোথাও ক্যাম্প ভেঙে পড়ে আছে। কোনো ক্যাম্পে পাঁয়তারা চলছে দোকান বসানোর।

রাজধানীর মনিপুরীপাড়া রোডের (২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা) ফুটপাত দখল করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ব্যস্ত রাস্তায় জনগণের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। একদিকে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ চলায় সরু রাস্তায় জ্যাম, অন্যদিকে ফুটপাতে নির্বাচনী ক্যাম্প- সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তি। স্থানীয়রা জানান, বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা এ ক্যাম্পের সরঞ্জাম এখন সড়ানো হয়নি। কিছুদিন পূর্বে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ কার্যালয় নামে। পাশের চা বিক্রেতা মিলন বলেন, ‘এখানে মূলত দোকান হবে। অনেকেই নেওয়ার জন্য লবিং করছে।’ ক্যাম্পের জায়গায় কয়টি দোকান হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জায়গা তো কম না, তিনটি তো হবেই।’

ধানমন্ডির গ্রিন রোডের ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে গেছে। বাঁশ পড়ে আছে ফুটপাতে। রাস্তা দিয়ে পথচারীরা চলছেন। ব্যাংকার শাহ্ আলম বলেন, ‘নগরবাসীর শান্তি কখনোই আর হলো না। একদিকে জ্যাম, অন্যদিকে ফুটপাত দখল করে দোকান। জনপ্রতিনিধিরা যদি আমাদের কথা মাথায় রেখেই রাজনীতি করেন তাদের বলব, জনগণের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন।’

ফুটপাত দখল করে ক্যাম্প স্থাপন এবং তা অপসারণ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ক্যাম্প করা হয়েছে তা এরইমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। যদি কোনোটি অপসারণ করা নাও হয়ে থাকে শিগগিরই হবে।’ তার দাবি, পূর্বের দলীয়  কার্যালয়গুলোই, তারা ক্যাম্প বানিয়েছেন। উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হককে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এস এম সফিকুর রহমান বলেন, ‘নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশনায় লেমিনেটিং আর পলিথিনে মোড়ানো পোস্টার অপসারণ করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত