চীনে দাড়ি-হিজাবের জন্য বন্দী হাজারো উইঘুর: নতুন নথি ফাঁস

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০১:২৭ পিএম

চীনে জিনজিয়াংয়ে হাজার হাজার উইঘুর মুসলিমের বন্দীদশার নতুন করে আরও নথি ফাঁস হয়েছে।

বিবিসি জানায়, এ যাবৎ ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে নথিগুলোতে। 

ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দী হওয়ার আগে ৩ হাজারেরও বেশি উইঘুরের প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড প্রকাশ পেয়েছে সেগুলোতে।

ফাঁস হওয়া ১৩৭ পৃষ্ঠার এসব নথিতে উইঘুরদের জীবনযাপন ও ধর্মীয় আচরণের নানা তথ্য উঠে এসেছে। তারা কীভাবে প্রার্থনা করে, কেমন পোশাক পরে, পরিবারের আচরণ কেমন, কাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ-এসব বিষয় নথিভুক্ত করা হয়েছে প্রতিজনের নামে।

বিশেষ ৩১১ জনের নামে যুক্ত করা হয়েছে অধিক তথ্য। ধর্মীয় আচার আচরণসহ তাদের অতীত কর্মকাণ্ড, শত শত আত্মীয়-প্রতিবেশী-বন্ধুদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ইত্যাদি যাচাই বাছাই করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। 

দেখা গেছে, দাড়ি রাখা, হিজাব পরা এমনকি ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য বন্দী করে রাখা হয়েছে তাদের অনেককে।

imageনথির ৫৯৮ নং সারিতে দেখা গেছে, হেলশেম নামে ৩৮ বছর বয়সী নারীকে আটক করে রাখা হয়েছে কয়েক বছর আগে তিনি হিজাব পরেছিলেন-এই অভিযোগে।

বেশ কয়েকজনকে অন্তরীণ করা হয়েছে পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য। দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াকেও জিনজিয়াংয়ে এখন চরমপন্থা গ্রহণ হিসেবে দেখা হয়। ৬৬ নং সারিতে দেখা গেছে, মেমেতোহতি নামে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে একই কারণে বন্দীশালায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও তার নামে পাশে লেখা হয়েছে, কোনো ধরনের প্রায়োগিক ঝুঁকি নেই।    

তবে উইঘুরদের কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং। এসব ডিটেনশন ক্যাম্পকে তারা ট্রেনিং সেন্টার বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে থাকে, যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মোকাবিলা করা হয় এবং উইঘুরদের জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য শিক্ষা দেয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত