দিনে রাতে ৪০-৪৫ বার আটকায় রেলগেট

চুয়াডাঙ্গায় দুর্ভোগের নাম রেলবাজার লেভেল ক্রসিং

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৪ পিএম

চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসীর দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শহরের ব্যস্ততম রেল বাজার এলাকার লেভেল ক্রসিং গেটটি। খুলনা হয়ে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের এ রুটে ট্রেন চলাচলের জন্য দিনে রাতে ৪০-৪৫ বার বন্ধ রাখতে হয় রেল লেভেল ক্রসিং গেটটি। এতে করে গেটের দু-প্রান্তে সড়কে বাস-ট্রাকসহ ছোট-বড় যানবাহন আটকে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ জানজট। তৈরি হচ্ছে চরম জনদুর্ভোগ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে যানজটে আটকা পড়ে প্রতিদিন ৫-৬ ঘণ্টা সময় সড়কেই নষ্ট হচ্ছে তাদের। এমন বাস্তবতায় রেল গেটের ওই স্থানে একটি উড়াল সেতু নির্মাণের দাবি জেলাবাসীর।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, চুয়াডাঙ্গা শহরের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এই পথে প্রতিদিন অন্তত ২২টি যাত্রীবাহী এবং ১২টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। যার মধ্যে খুলনা-রাজশাহী, খুলনা-গোয়ালন্দ, খুলনা-ঢাকা ও খুলনা-সৈয়দপুর রয়েছে। এছাড়া এ রুটে ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং বেনাপোলের যাত্রীবাহী ট্রেনও চলাচল করে নিয়মিতভাবে। আর এ কারণে আপ-ডাউন মিলে দিন-রাতে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ বার শহরের রেল বাজার এলাকার লেভেল ক্রসিং রেলগেটটি বন্ধ করতে হয়।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অত্যাধুনিক ক্যারিয়ার লকের মাধ্যমে রেলগেট বন্ধ করা হয়। আর এ কারণে ট্রেন আসার অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত সিগন্যাল দিয়ে গেটটি লক হয়ে যায়। এই সংকেত সিগন্যালের ফলে ট্রেন আসার আগে রেলগেট দেওয়া ও ট্রেন চলে যাওয়ার পর রেলগেট তুলতে গেটম্যানের ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লেগে যায়। আর এ কারণেই লেভেল ক্রসিং গেটে যানবাহন আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

চুয়াডাঙ্গা স্টেশন মাস্টার নাসরীন ফারহানাও রেলক্রসিং গেটে আটকা পড়ে জনগণের দুর্ভোগের কথাটি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের হাত-পা অনেকটা বাঁধা। ট্রেনযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য দুর্ঘটনা এড়াতে লেভেল ক্রসিং গেট  নামানো হয় দিনে ৩০ থেকে ৪০ বার।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল বাজার এলাকাটি এমনিতেই একটি ব্যস্ততম এলাকা। এ সড়ক ধরেই মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ রুটের শত শত যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দিনে-রাতে দফায় দফায় লেভেল ক্রসিং গেটটি বন্ধ হওয়ার কারণে যানজটে পড়ে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিশেষ করে সকালে অফিসগামী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় মারাত্মক দুর্ভোগে। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়েও বিপাকে পড়েন অ্যাম্বুলেন্সের গাড়ির চালকরা।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিয়ান তাসিফা বলেন, ওই রেলগেটে আটকে মাঝে মধ্যেই কলেজে পৌঁছাতে বিলম্ব হয় আমাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি আহম্মেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি উড়াল সেতুর (ওভারপাস) দাবি জানিয়ে আসছি। বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই আন্দোলনে নামব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, লেভেল ক্রসিং রেলগেটে একটি উড়াল সেতু নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একনেকে অনুমোদন হলেই জেলাবাসীর দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত