নদীর নাব্য সংকটে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটলাই নদীর পাঁচ কিলোমিটার এলাকা আটকে আছে কয়লা ও চুনাপাথরবোঝাই হাজারের বেশি নৌযান। বড়ছড়া ও বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা এসব কয়লা, চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য রওনা দিলেও এক মাস ধরে আটকে আছে এসব নৌকা।
সময়মতো পণ্য পৌঁছে দিতে না পারায় এতে শতকোটি টাকার ক্ষতির মুখে আছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়রা বলছেন, এই নদী খনন না করায় ১৫ বছর ধরে এ সময়ে নাব্য সংকটে নৌজট লেগে থাকে। দ্রুত এই নদী খননের কাজ শুরু না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পাটলাই নদীর দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর বাজার থেকে নদীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার বড়ছড়া টেকেরঘাট শুল্কস্টেশন থেকে কয়লা ও চুনাপাথরবোঝাই করে নিয়ে আসা কুমিল্লা, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী হাজারের বেশি বলগেট, বাল্কহেড ও ইঞ্জিনচালিত নৌযান আটকা পড়েছে। কেউ এক মাস, কেউ ২২ দিন কেউ আবার ১৫ দিন যাবৎ নদীতে নৌজটে কয়লা ও চুনাপাথরের কয়েক শ কোটি টাকার পণ্য নিয়ে আটকে আছে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা থেকে আসা কয়লাবাহী ‘শিফাত পরিবহন’ নৌকার মাঝি তসলিম উদ্দিন জানান, ২৩ দিন ধরে কয়লা নিয়ে এখানে আটকে আছেন। আর কত দিন থাকতে হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা পাথরবাহী ‘আরাফাত পরিবহন’ নৌকার মাঝি রুকু মিয়া বলেন, ‘এক মাস ধরে এখানে আটকে থাকা-খাওয়ার জন্য যে টাকা নিয়ে এসেছি সব শেষ। এখন পরিবারকে কী খাওয়াব?’
ঢাকার কয়লা ব্যবসায়ী বাহার উদ্দিন বলেন, ‘২০ দিন ধরে ১৯২ টন কয়লা নিয়ে আটকে আছি। সময়মতো মাল পরিবহন না করায় পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগায় সময়মতো মাল পৌঁছে দিতে না পারায় ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে।’
উপজেলার সুলেমানপুরের বাসিন্দা হাবিল মিয়া জানান, আটকে পড়া নৌযানের সংখ্যা হাজারের বেশি। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাটলাই নদীর কয়েক কিলোমিটার স্থানজুড়ে এ নৌজট সৃষ্টি হয়। ১৫ বছর ধরে নাব্য সংকট চললেও খননকাজ শুরু হচ্ছে না। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে।
তাহিরপুর বড়ছড়া কয়লা আমদানিকারক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলকাছ খন্দকার দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রতি বছর নৌজটের এ সমস্যা কারণে ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসা স্বাভাবিক থাকলে এ স্টেশন থেকে প্রতি বছর শতকোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। এ শুল্কস্টেশন দিয়ে ব্যবসায়ীদের আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনের একমাত্র পথ পাটলাই নদী। আমরা এ নদী খননের জন্য অনেকবার লিখিত আবেদন করেছি কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী জানান, পাটলাই নদীটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ নদীর খননকাজ শুরু হবে।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, দ্রুতই শুরু হবে এর খননকাজ। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যেই নৌজট কমবে।
