ক্রেইগ আরভিনের দুই আক্ষেপ। দিনের একেবারে শেষ ভাগে তার আউট হয়ে যাওয়াটা জিম্বাবুয়ের জন্য ভালো হলো না। দ্বিতীয়ত, মিরপুরের উইকেট বিস্ময় উপহার দিয়ে ব্যাটসম্যানদের দিকে হাত বাড়িয়ে আছে। তাই দুই তিনটা উইকেট বেশি পড়ে গেছে। প্রথম দিন শেষে তাদের ৬ উইকেটে ২২৮ বাংলাদেশকে ফ্রন্ট ফুটে নিয়ে গেছে।
ক্রেইগ জিম্বাবুয়ের সোনালি প্রজন্মের শন আরভিনের ভাই। কিন্তু সেই প্রজন্ম ভেঙে যেতে যেতে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট হয়ে পড়েছিল এলোমেলো। ৩৪ বছরের আরভিনের তাই এটা মাত্র ১৮তম টেস্ট। করলেন তৃতীয় সেঞ্চুরি, তবে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে প্রথম। গতকাল তিন সেশনেই উইকেটে থাকা এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ১০৭ করেছেন ২২৭ বলে। বাউন্ডারি ১৩টি। আছে শতাধিক রানের একটা জুটিও। প্রায় সারা দিন উইকেটে কাটিয়ে (৯ম ওভারে খেলতে নেমে ব্যাট করেছেন প্রায় ৮০ ওভার) আসা খেলোয়াড় বলছেন, এখানে ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য আর বোলারদের শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতার লড়াই চলবে।
‘উইকেট খুব ভালো ছিল আজ (গতকাল)। বাংলাদেশ সত্যি খুব ভালো বল করেছে। টাইট লাইনে ধারাবাহিক ছিল।’ আরভিন বলছিলেন, ‘আমি শুধু ধৈর্য ধরেছি। উইকেটে তেমন কিছু ঘটছিল না। তবে তারা ভালো জায়গায় বল করছিল। আমি শুধু নিজেকে প্রয়োগ করে যখন সুযোগ আসে তখন রান করে গেছি।’
‘এতটা ভালো উইকেট আমরা আশা করিনি।’ কথাটা বলে উইকেটের অন্য একটা দিক নিয়েও আলোচনা করে গেলেন আরভিন, ‘নতুন ইনিংস শুরু করা সবসময় কঠিন। উইকেটের পেস ও স্কিডের সঙ্গে একবার মানিয়ে নিতে পারলে হয়ে যায়। ব্যাটসম্যানের কেবল নিজেকে প্রয়োগ করা লাগে। স্কোরবোর্ড আছে বলে আমার বেশি কিছু বলার নেই।’
তবে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে জানিয়ে ওই আফসোস, ‘শেষটায় আমার আউটটা ব্যবধান কিছু তৈরি করেছে। আগামীকাল আমি ও রেজিস চাকাভা শুরু করতে পারলে ভালো হতো। আমরা সম্ভবত দুই থেকে তিন উইকেট বেশি হারিয়ে ফেলেছি।’
মিরপুরের মাঠে তৃতীয় সফরকারী হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন বলে নয়, উপমহাদেশের মাটিতে সেঞ্চুরির জন্য বেশি তৃপ্ত আরভিন, ‘দেশের বাইরে সেঞ্চুরি সবসময় স্পেশাল। বাংলাদেশে সবসময় আমাকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। তবে আজ (গতকাল) এমন একটা ইনিংস খেলতে পেরে অবশ্যই আমি তৃপ্ত।’
