কুড়িয়ে পাওয়া মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিতে ২০০ কি.মি. পথ পাড়ি গার্ডের

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৪১ পিএম

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিতে গিয়ে বিশাল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন ভারতের এক নিরাপত্তাকর্মী। দুইশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়েছেন সেই মানিব্যাগ।

বিবিসি জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরের পর কাজ শেষে এমনিই রাস্তায় ঘুরছিলেন ভুবনেশ্বর শহরের বেসরকারি নিরাপত্তা গার্ড মুদবির খান। হঠাৎই রাস্তায় একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন।

মানিব্যাগটির ভেতরে ছিল প্রায় চারশ রুপি। ছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট। ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্যান কার্ড আর আধার কার্ড এসব।

মুদরিব খান বলেন, ‘আমার নিজেরও একবার মানিব্যাগ হারিয়ে গিয়েছিল। সব ডকুমেন্টস নতুন করে করাতে গিয়ে অনেক ভোগান্তি হয়েছিল। তাই ভাবছিলাম যার মানিব্যাগ হারাল তাকে তো অনেক ভোগান্তি সহ্য করতে হবে।’

নথিপত্রগুলো থেকে মানিব্যাগের মালিকের নাম জানতে পেরেছিলেন তিনি। ব্যাগটি জ্যোতি প্রকাশ রাম নামের একজনের। কিন্তু কোনো ফোন নম্বর পাওয়া যায়নি।

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর শহরের একটি দোকানের রসিদ ছিল ব্যাগের ভেতর। সেখানে ফোন করেন মুদরিব খান। কিন্তু তারা কোনো ওই ব্যক্তির খোঁজ দিতে পারেনি।

এই নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘আধার কার্ডে ওই ব্যক্তির বাড়ির ঠিকানা ছিল কেওনঝড় জেলার একটি গ্রামের। নতুন আধার কার্ডে ফোন নম্বর থাকে। কিন্তু এটা বোধ হয় আগেকার, তাই কোনো মোবাইল নম্বর পাইনি। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নিই যে ওই গ্রামে যাব।’

রাতেই বাস ধরে মাঝরাতের পর কেওনঝড় জেলার আনন্দপুর শহরে পৌঁছান মুদবির খান। সুনসান ছোট শহরের বাসস্ট্যান্ডেই বাকি রাতটুকু কাটিয়ে দেন তিনি।

ভোর সাড়ে চারটি নাগাদ একটা চায়ের দোকান খোলে। সেখানে খোঁজ করে জানতে পারেন ফকিরপুর গ্রামটি কোন দিকে। একজন মোটরসাইকেল আরোহী অনুগ্রহ দেখিয়ে গ্রামের তিন কিলোমিটার দূরে ছেড়ে দেন তাকে। তারপর পায়ে হেঁটে তিনি গ্রামে ঢোকেন। গ্রামের একজন চা দোকানদার মানিব্যাগটির মালিকের বাড়ি দেখিয়ে দেন।

মানিব্যাগটির মালিক জ্যোতিপ্রকাশ রাম একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি চাকরি করেন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের জামশেদপুরে। গ্রামের চা দোকানদার তাকে ফোন করে মানিব্যাগ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেন।

ডা. জ্যোতি প্রকাশ রাম বলছিলেন, ‘আমি তো ফোন পেয়ে অবাক। ভাবতেই পারিনি যে আগের দিন সন্ধ্যায় হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগ পরদিন ভোরের মধ্যে আমার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়ে যাবে কেউ। ওই ব্যাগটা ফিরে পাওয়ার আশাই করিনি।’

মুদবির খান ওই চিকিৎসকের বাবা এবং ভাইয়ের আধার কার্ডের সঙ্গে ডা. রামের আধার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে ফেরত দেন মানিব্যাগটি।

ডা. রামের বাবা জোর করে যাতায়াতের খরচ হিসেবে এক হাজার রুপি হাতে গুঁজে দেন মুদবির খানের হাতে।

মুদবির খান একাই থাকেন ভুবনেশ্বর শহরে। উড়িয়ার কটক জেলার বাসিন্দা তিনি। পরিবারে বাবা, মা, স্ত্রী, পুত্র, ভাই আছেন। মুদবিরই একমাত্র কর্মজীবী তার পরিবারে।

এভাবে একজন দরিদ্র নিরাপত্তাকর্মী এতটা কষ্ট করে মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেবে- এতে বিস্মিত হন ডা. রাম।

তিনি বলেন, ‘মুদবির সাহেব যা করেছেন, তা শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছে। আমি ওকে বলেছি ওর গ্রামের জন্য আমি কিছু করতে চাই। উনি সত্যিই একটা রোল মডেল।’

তবে মুদবির খান মনে করছেন না যে, তিনি মহান কোনো কাজ করেছেন। তার ভাষ্য, ‘নিজে ভুগেছি মানিব্যাগ হারিয়ে। তাই আরেকজনের মানিব্যাগ কুড়িয়ে পেয়ে ফেরত দিয়ে এসেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত