করোনা আতঙ্ক: স্পেনের অভিজাত হোটেলে অবরুদ্ধ ১ হাজার পর্যটক

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:৫২ পিএম

করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে একটি অভিজাত হোটেল অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রুমে আটকা পড়েছেন অন্তত এক হাজার পর্যটক ও কর্মচারি-কর্মকর্তা।

বিবিসি জানায়, ক্যানারি দ্বীপে টেনেরিফে একটি হোটেলে এক ইতালি পর্যটকের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি একজন চিকিৎসক।

আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ইতালির লোমবারডি অঞ্চলের বাসিন্দা। দেশটিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে অঞ্চলটিও একটি। সেখানে সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইতালি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম  এল প্যারিস জানাচ্ছে, এইচ টেন কোস্টা আদেহে প্যালেস নামে হোটেলটিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন হাজার খানেক পর্যটক, কর্মচারি-কর্মকর্তা। শারীরিক পরীক্ষার জন্য প্রত্যেককে তাদের রুমে থাকতে বলা হয়েছে। হোটেল থেকে বের হতে গেলে তাদের বাধা দিচ্ছে নিরাপত্তাকর্মীরা।

এদিকে চীনের এই মহামারি ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬৯৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গোটা পৃথিবীতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ১৪৬ জন।

চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অন্তত ২৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছ কভিড-১৯ নামে এই করোনাভাইরাস। ইরানে মারা গেছে ১৫ জন। চীনের বাইরে এটাই সর্বোচ্চ মৃতের সংখ্যা। দেশটির সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক, পাকিস্তান, আরমেনিয়া, তুরস্ক। আফগানিস্তান আকাশ ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সঙ্গে। 

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে ইউরোপেও। ইতিমধ্যে ইতালিতে মারা গেছে ৭ জন। দেশটিতে ১২টি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি। প্রদেশটিতেই এখন পর্যন্ত মারা গেছে আড়াই হাজারের অধিক।

করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক এবং ভ্যাকসিন নেই। মৃতদের অধিকাংশই বয়স্ক যাদের আগে থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জটিলতা ছিল।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এটি মোড় নিতে পারে নিউমোনিয়া, রেসপিরেটরি ফেইলিউর বা কিডনি অকার্যকারিতার দিকে। পরিণতিতে ঘটতে পারে মৃত্যু।

এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। কারও ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও দেখা দিতে পারে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। সাধারণ ফ্লুর মতোই হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এ রোগের ভাইরাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত