রাজধানীর মগবাজারে দিলু রোডে এক বাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দম্পতির অবস্থা অপরিবর্তিত। তাদের দুজনের শারীরিক অবস্থা প্রথম থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল।
বৃহস্পতিবার ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় তাদের চার বছরের একমাত্র সন্তান একেএম রুশদি। মা ও বাবাকে হাসপাতালে রেখে তাকে নেয়া হয় হিমঘরে। সেখানে এক দিন থাকার পর শুক্রবার রাতেই রুশদির মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
এদিকে তার মা ও বাবা বিষয়ে এখনই কাউকে কিছু বলে আশ্বস্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এর সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, কাল থেকেই মো. শহিদুল কিরমানি রনি (৪০) ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (৩৮) ইনস্টিটিউটটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে তাদের অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। তাদের শরীর অসম্ভবভাবে দগ্ধের কারণে ফুলে গেছে। এখনো তাদের বিষয়ে কিছু চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এ অবস্থা থেকে রিকভারি করার সম্ভাবনা খুবই কম যেইটা আমরা প্রথম দিনই বলেছি।
ইনস্টিটিউটে দগ্ধ শহিদুল কিরমানি রনির বাবা ও কালের কণ্ঠের সিনিয়র প্রোডাকশন ম্যানেজার একেএম শহিদুল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার নাতি একেএম রুশদির লাশ ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার থেকেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়েছিল। আমরা অপেক্ষা করছিলাম যে তার বাবার অবস্থা কিছুটা ভালো হয় কি না। যদি সেরকম কোনো সম্ভাবনা থাকত, তাহলে আমরা বাচ্চাটার লাশ আরো কিছুদিন হিমাগারে রাখতাম। তবে ডাক্তার আমাদের সেরকম কোনো আশা দিতে পারেনি। আজকে (শুক্রবার) কোনো সিনিয়র ডাক্তার তাদের দেখিনি। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের দেখছেন। তারা জানিয়েছেন, এখনো তাদের দুজনের অবস্থা অপরিবর্তিত। এই অবস্থায় যদি আর দু-তিন দিন থাকে তাহলে ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। আর যদি এর চেয়ে খারাপের দিকে যায় তাহলে ভাগ্যে কী আছে সেটা বলা যায় না।
তিনি বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় রুশদির মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি নরসিংদী শিবপুর উপজেলার ইটনা গ্রামের উদ্যেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে রাতে নিজেদের বাড়িতেই দাফন করা হবে রুশদির মরদেহ।
নিহত রুশদির মামা মো. বিপ্লব বলেন, ‘কালকের তুলনায় তাদের দুজনের মুখ আরো ফুলে গেছে। কালকের পর আমি আর ভেতরে যাইনি। ডাক্তাররাও অতিরিক্ত লোক ভেতরে যেতে বারবার নিষেধ করছেন। এ জন্য আমরা কাউকে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছি না। আর যে কেউ তাদের দেখে সহ্য করতে পারবে না। তাদের দুজনের চেহারাই ফুলে একেবারে বিকৃত হয়ে গেছে। আর সারা শরীরে ব্যান্ডেজ দিয়ে মোড়ানো’।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বার্ন ইনস্টিটিউটে আইসিইউ’র সামনে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মী, পরিচিতরা সেখানে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ দুর্ঘটনার পর থেকেই তাদের সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন। ফ্লোরে মাদুর পেতে বসে আছেন অনেকে। কেউ বা শুয়ে-বসে পরিবারটির তাদের স্মৃতিচারণ করছেন।
