আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুবিধাবাদীদের আওয়ামী লীগে জায়গা নেই। সুবিধাবাদীদের দরকার নেই। তারা সুসময়ে আছে, দুঃসময় এলে এরা পালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, যার যার পছন্দের লোককে নেতা বানাবেন, আর সেই নেতারা বিপদের দিনে সাইবেরিয়ার পাখির মতো পালিয়ে যাবে। এ ধরনের নেতা আমাদের দলে দরকার নেই।
রবিবার রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দিয়ে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।
তিনি বলেন, যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন, তাহলে আমি বলে যেতে চাই- দুর্নীতিকে না বলুন, সন্ত্রাসকে না বলুন, চাঁদাবাজিকে না বলুন, মাদকাসক্তিকে না বলুন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মুজিব আদর্শে আমাদের শপথ হবে। আমরা ত্যাগের মহিমায়, ভোগের লিপ্সা পরিহার করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা গড়ে তুলব। আমরা আওয়ামী লীগে কোনো সুবিধাবাদী, দুর্নীতবাজ, সন্ত্রাসীকে জায়গা দেব না।
তিনি বলেন, এক সময় রাজশাহীতে ১০০ জন কর্মী খুঁজে পেতাম না একটি কর্মীসভা করার জন্য। আজকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর তারুণ্যের উচ্ছল আলোয় উদ্ভাসিত এ সম্মেলন কেন্দ্র। আধুনিকতার সঙ্গে বাস্তববাদিতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকে কেউ নিজস্ব বলয়, নিজস্ব সিন্ডিকেট সৃষ্টি করতে পারবেন না। ঘরের মধ্যে ঘর করা যাবে না। মশারির মধ্যে মশারি খাটানো যাবে না। দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগের ভালোর লোকের অভাব নেই।
তিনি অরও বলেন, দল ভারী করার জন্য খারাপ লোক দলে টানবেন না। কমিটি করতে গিয়ে পকেট কমিটি করবেন না। পকেট কমিটি করে বঙ্গবন্ধুকে ছোট করবেন না। শেখ হাসিনাকে ছোট করবেন না। আওয়ামী লীগকে দুর্বল করবেন না। পকেটের লোকদের দিয়ে কমিটি করলে আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদীদের হাতে চলে যাবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে কেন যেন মাঝে মাঝে মানে হয় আওয়ামী লীগে কর্মী কমে যাচ্ছে, নেতা বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের এত নেতার দরকার নেই। আমাদের আজকে সাচ্চা কর্মী দরকার। মঞ্চের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে কত নেতা! তখন করতালি আর স্লোগান দেয় মাঠভর্তি কর্মীরা। বিলবোর্ডে সুন্দর সুন্দর ছবি নেতাদের, লোকে চেনেও না।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ আছে, কঠিন চ্যালেঞ্জ আমাদের অতিক্রম করতে হবে। আজকে আমাদের মনে রাখতে হবে- বাংলার বাতাসে আবারও ষড়যন্ত্রের গন্ধ, চক্রান্তের গন্ধ। সাম্প্রদায়িক অশুভশক্তি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, এই অশুভশক্তি আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। এখন তারা চক্রান্তের পথে সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছে। এই অশুভ শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশে আর যেন কোনো দিন সাম্প্রদায়িক শক্তি, অন্ধকারের শক্তি ক্ষমতায় না আসতে পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিএনপিকে বাংলাদেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যে পার্টিকে কানাডার আদালত পর্যন্ত সন্ত্রাসী বলেছে, সেই পার্টিকে বাংলার মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ আরেক বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র হাওয়া ভবন দেখতে চায় না।
এর আগে বেলা ১১টায় মহানগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
