গুজব, গণপিটুনি ঠেকাতে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ০৯:১২ পিএম

গণপিটুনির মতো ঘটনা এড়াতে গুজব সৃষ্টিকারী যেকোনো অডিও, ভিডিও ও খুদে বার্তা অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুজব ছড়ানোর পর গণপিটুনির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পাঁচ দফা নির্দেশনাও দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রবিবার এক রায়ে এসব নির্দেশনা দেয়।

গত বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডায় একটি স্কুলে ছেলে ধরা গুজবে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনুকে হত্যার প্রেক্ষাপটে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায়ে এসব নির্দেশনা এসেছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল তৌফিক সাজাওয়ার।

হাইকোর্টের পাঁচ নির্দেশনা হলো ১. পুলিশের প্রত্যেক সার্কেল অফিসার (এএসপি) তার অধীনের প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে ৬ মাসে অন্তত একবার করে গুজব ও গণপিটুনির প্রবণতার অবস্থা নিয়ে বৈঠক করবেন। ২. গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রচার কার্যক্রম ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অব্যাহত রাখবে। ৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অডিও, ভিডিও, খুদে বার্তা যা গুজব সৃষ্টি বা গণপিটুনিতে মানুষকে উত্তেজিত করতে পারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে যেসব দুষ্কৃতকারী এ কাজে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। ৪. যখনই গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটবে, কোনোরকম বিলম্ব না করে তখনই সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এফআইআর নিতে বাধ্য থাকবেন এবং তা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে অবহিত করবেন।

আদালত জানায়, গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনায় উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন ঢাকার জেলা শিক্ষা অফিসার।

গত বছরের ২০ জুলাই সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানের ভর্তির তথ্য নিতে যান তাসলিমা আক্তার রেনু। ১১ বছরের একটি ছেলে এবং চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তার। থাকতেন মহাখালীর একটি বাসায়। ঘটনার দিন ওই স্কুলে ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে কিছু উশৃঙ্খল মানুষ নির্মমভাবে গণপিটুনি দিলে তিনি মারা যান। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ মামলার মূল আসামি সবজি বিক্রেতা হৃদয়সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঢাকার বিচারিক আদালতে এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের পর্যায়ে রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত