শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কটি উন্নত হওয়ার পর এ রাস্তায় মৃত্যু এখন প্রতিনিয়ত ঘটনা। অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক ও লরির বেপরোয়া গতির ফলে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর তথ্যমতে, গত ছয় মাসে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এই সড়কে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ সড়কে দুর্ঘটনায় মারা গেছে চার এসএসসি পরীক্ষার্থী। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার স্থানীয়রা সড়কটি অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
পিকনিক থেকে ফেরার পথে শনিবার রাতের দুর্ঘটনায় নিহতরা হলো ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলার শালীহর এলাকার আরশাদুল, ইয়াসিন, হৃদয় ও মাহবুব। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে এবং অপর দুজন হাসপাতালে মারা যায়।
সদ্য এসএসসি পরীক্ষা শেষ করা চার শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল রবিবার সকাল থেকে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
গতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের পর্যটনশিল্প ও খনিজসম্পদকে প্রাধান্য দিয়ে গেল বছর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় শ্যামগঞ্জ থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি নির্মাণে অনেকটাই স্বস্তি ফেরে পর্যটকসহ স্থানীয়দের মধ্যে। কিন্তু সড়কটি উন্নত হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা বলেন, সড়কটির দুপাশে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও নেই কোনো গতি প্রতিরোধক ব্যবস্থা। চালকদের অদক্ষতার কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার। গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিডগান বসানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী।
