রাজশাহীর পুঠিয়ার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় এজাহার বদলে দেওয়ার ঘটনায় ওই থানার তৎকালীন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) সাকিল উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্ত করতে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেটি বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সাকিল উদ্দিন আহমেদের করা আবেদন খারিজ করে রবিবার এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতে সাকিল উদ্দিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আব্দুল মতিন খসরু। অন্যপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পর তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তিনি (সাকিল) আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সেটি খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। এখন এ ঘটনায় হাইকোর্ট দুদককে যে তদন্ত করতে বলেছিলেন সেটি চলবে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আসা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও চলবে।
পুঠিয়া উপজেলার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১ ডিসেম্বর রায় দেয় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
ওসি সাকিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর এবং তা দ-বিধির ১৬৬ ও ১৬৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করে আদালত বলে, এ দুটি ধারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত। তাই এ বিষয়ে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং এ সংক্রান্ত নথি দুদকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো এবং দুদক আইন ও বিধি অনুসারে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
নুরুল ইসলামের মেয়ে নিগার সুলতানার করা ওই রিটের ওপর শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওসি সাকিল উদ্দিনের বিষয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয়। ওই আদেশের পর রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেন। ২৭ নভেম্বর ওই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে ১ ডিসেম্বর রায় হয়।
