সুনামগঞ্জ দোয়ারাবাজার উপজেলার নান্দাই হাওরে ১৩টি প্রকল্পের বাঁধের কাজে নানা অনিয়ম ও সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদে অনশনে বসেছেন চার কৃষক।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দোয়ারাবজার উপজেলার হাওরে তারা সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে অনশনে বসেন।
অনশনকারী কৃষকেরা হলেন- দোয়ারাবাজার উপজেলার মাঝেরগাঁও গ্রামের আ. (৭০), আ. জলিল (৬৫), আ. রউফ (৫৫) এবং বড়বন গ্রামের আ. জলিল (৬০)।
এ সময় অনশনে কৃষকদের সঙ্গে যোগ দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন ও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা।
অনশনরত কৃষকরা অভিযোগ করে জানান, ‘দোয়ারাবাজার উপজেলার নান্দাইর হাওরের তাদের সবার ২০০ বিঘার উপর জমি রয়েছে অথচ এই হাওরে ১৭টি প্রকল্পের বাঁধের কাজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। পুরোনো বাঁধকে ঘষামাজা করে কাজ করছে এবং বাঁধের পাশ থেকেই মাটি তুলে বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে এতে বৃষ্টি আসলে বাঁধ ভেঙে যাওয়া ঝুঁকি রয়েছে।
অনশনরত কৃষক আ. নুর বলেন, নান্দাই হাওরে ১ থেকে ১২ ও ১৬ নং প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের কাজ কোনো কৃষকদের না দিয়ে প্রভাবশালী লোকদের দিয়ে করানো হচ্ছে কাজ। বাঁধ নির্মাণে এসব নানা অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে বারবার জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি তাই বাধ্য হয়ে আজ অনশনে বসেছি।’
এদিকে বাঁধ নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো শেষ হয়নি বাঁধের কাজ তাই আবারও ফসল হারানোর শঙ্কা করছেন তারা।’
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এই হাওরের প্রতিটি প্রকল্পের কোনোটিতেই কাজ ঠিকমতো হয়নি। কাজ কোনো কোনো স্থানে পুরোনো বাঁধের ওপর নতুন করে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। আমার চাই এসব প্রকল্পের কাজে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নইলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দোয়ারাবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শমসের আলী জানান, উপজেলার এ হাওরে ১৭টি প্রকল্প আছে সবগুলোর কাজ প্রায় শেষ। এখানে বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়নি। এলাকায় দুটি পক্ষ আছে। স্থানীয় বিরোধের কারণেই এখন এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল আহাদ দেশ সুপারকে জানান, হাওরে বাঁধ নির্মাণে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার বিষয়ে কমিটি রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।
