জি কে শামীমের দেহরক্ষীরা কীভাবে অস্ত্রের লাইলেন্স পেলেন: হাইকোর্ট

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের চার দেহরক্ষী কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইলেন্স পেয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

কোন যোগ্যতায় তারা এ লাইসেন্স পেয়েছেন তা জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই চারজনের আয়কর রিটার্নের বিষয়েও তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

চারজনের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানিতে মঙ্গলবার এসব তথ্য জানতে চায় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

৫ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবীকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

চার দেহরক্ষী হলেন, রাজধানীর বাড্ডার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, যশোরের শহীদুল ইসলাম, ভোলার কামাল হোসেন ও নীলফামারীর শামশাদ হোসেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামীম সরদার।

চারজনকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি রুল দেয় হাইকোর্ট। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তাদের জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করলে আসামিরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন।

অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সব অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে তাতে এগুলো সম্মিলিত অপরাধ। তার (জি কে শামীম) দেহরক্ষীরাও দুষ্কর্মের সহযোগী। আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স আছে। কিন্তু লাইসেন্স থাকলে মামলা হলো কেন? আদালত বলেছেন, যদি লাইলেন্স থেকেই থাকে তাহলে, সেটি দেখান। কখন, কোথায় ও  কোন যোগ্যতায় তারা লাইসেন্স পেলেন এবং তারা আয়কর দেন কি না তা বুধবার আদালতকে জানাবেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।’ 

২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনে অভিযান চালিয়ে জি কে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে ও তার দেহরক্ষীদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে দু শ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধার করা হয়।

যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে আসা জি কে শামীমের বিরুদ্ধে গণপূর্ত ভবনে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নেয়া, ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অর্থপাচারের মামলায় জি কে শামীম কারাগারে রয়েছেন।

এসব মামলায় তাকে কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত