ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সাংবিধানিক বৈধতা মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার রক্ষা হাইকমিশনার কার্যালয় (ইউএনএইচআরসি)।
এই বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন দাখিল করেছে সংস্থাটি। জেনেভায় ভারতের স্থায়ী দূতাবাসকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা।
সিএএ’র সাংবিধানিক বৈধতা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। সেসবের পক্ষে অংশ নিতে চায় জাতিসংঘের সংস্থাটি।
যদিও তাদের আবেদন সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করবে কী না, এই বিষয়ে এখনো মুহূর্তে তা জানা যায়নি। তবে জাতিসংঘের পক্ষে এমন পদক্ষেপ বিরল বলে জানিয়েছেন কূটনীতিকেরা।
এ দিকে এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘সিএএ একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতীয় পার্লামেন্ট যেকোনো ধরনের আইন প্রণয়নের অধিকার রাখে। সেটি দেশের সার্বভৌম অধিকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ভারতের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে কোনো বিদেশির প্রশ্ন তোলার কোনো ধরনের এখতিয়ার নেই।’
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে সিএএ পাস হয়। এর পরপরই পুরো ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মহলও আইনটির বিরুদ্ধে নিন্দা জানায়।
সিএএ’কে মুসলিম বিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে উত্তাল হয়ে উঠে সবগুলো রাজ্য। আসামসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো অগ্নিগর্ভ ধারণ করে। পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া, জেএনইউর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের ওপর একাধিকবার হামলা চালায় পুলিশ ও সিএএ সমর্থনকারীরা। সর্বশেষ বড় ধরণের সহিংসতায় রক্তাক্ত হয় উত্তর-পূর্ব দিল্লি।
এই আইনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে শরণার্থী হিসেবে হিন্দু, পারসি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেখানে প্রতিবেশী দেশ থেকে যাওয়া মুসলিমদের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।
আইনটি পাস হওয়ার ৭৯ দিনের মধ্যে নিহত হয়েছে ৬৯ জন। দুই মাসের অধিক সময়ে অর্ধশতাধিক মৃত্যুর পরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কীভাবে আইনটি কার্যকর হবে।
