বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের অধিনায়ক অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষবারের মতো টস করতে নামবেন তিনি। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে যে ঘোষণা দেন মাশরাফী। তার আগে অনুশীলনে সতীর্থদেরও জানিয়ে দিয়েছেন সিদ্ধান্তের কথা।
ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফীর এই বিদায় ছুঁয়ে গেছে মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তাদের বক্তব্যগুলো দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
মুশফিকুর রহিম
মাশরাফী ভাইয়ের বিকল্প কখনো আসবে না। মাশরাফী ভাই পরিবারের একটি অংশ। শুধু আমাদের জন্য বড় ভাই-ই নন, মাশরাফী ভাই আমাদের একাংশ। উনি অধিনায়ক হওয়ার পর আমাদের দলকে আমূল বদলে দিয়েছেন। মাঠের ভেতরই নয় শুধু, মাঠের বাইরেও অনেক বদলে দিয়েছেন। অবশ্যই অনেক মিস করব। আশা করব, উনি যত দিন পারেন যেন খেলা চালিয়ে যেতে পারেন।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
মাশরাফী ভাই যখন অধিনায়ক ছিলেন, ভাই, বন্ধু বা অধিনায়ক যাই বলেন, আমি পুরো সময়টা খুব উপভোগ করেছি। প্রায় ৬ বছর উনি অধিনায়কত্ব করেছেন। অনেক সাফল্যও পেয়েছেন। ওনার পরবর্তী জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। এটায় কোনো সন্দেহ নেই যে উনি বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি।
তামিম ইকবাল
এত অল্প সময়ে মাশরাফী ভাইকে নিয়ে কথা বলা কঠিন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য উনি যা করেছেন তা কোনো ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সমর্থক কারো কোনো দিন ভোলা উচিত নয়। আমাদের সবার মনের ভেতর থাকা উচিত।
২০১৫ সালে আমরা একটি জায়গায় ছিলাম, ২০১৯ সালে একটা অবস্থায় এসেছি। ওনার হাত ধরেই। ওয়ানডেতে বিশেষ করে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব আমাদের এখন যেভাবে মূল্যায়ন করে, এটা ওনার জন্যই সম্ভব হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান
জানার পর থেকেই মন খারাপ। ভাইয়ের কোনো ব্যাখ্যা নাই আমার কাছে। আমাকে তিনিই নিয়ে এসেছিলেন দলে। আমার মন এখনো খারাপ।
লিটন কুমার দাস
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেরা অধিনায়ক তিনি। ক্রিকেটারদের যেভাবে সমর্থন করে গেছেন, এটা বলার মতো নয়। বিশেষ করে জুনিয়র ক্রিকেটারদের। আমার যখন অভিষেক হয়, ওনার নেতৃত্বে খেলেছি। আমার জন্য সেটি বড় পাওয়া। আমার পাশে থেকেছেন সব সময়।
নতুন যারাই আসে দলে, সবাইকে সমর্থন করেন। অধিনায়ক যখন একজন ক্রিকেটারের এত জোর দিয়ে পাশে থাকে, সেটা অনেক বড় ব্যাপার। ওনার ভেতর এই ব্যাপারটি অনেক বেশি আছে। আমরা তাকে অনেক মিস করব।
মোহাম্মদ মিঠুন
আমি কিছুক্ষণ আগেই শুনেছি, উনি আর অধিনায়কত্ব করছেন না। এটাই শেষ ম্যাচ। অবশ্যই উনাকে অনেক বেশি মিস করব। তারপরও তার সঙ্গে যেখানেই খেলব, অধিনায়ক না থাকলেও সবাই তাকেই নেতা হিসেবে চিন্তা করব।
তাইজুল ইসলাম
আমার ক্ষেত্রে শুধু বলব না, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্যই মাশরাফী ভাইয়ের প্রভাব খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন নতুন, জাতীয় দলে ঢুকেছি, আসলে তখন সহায়তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটারের জন্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এদিক থেকে মাশরাফী ভাইয়ের সমর্থন অন্যরকম ছিল। অধিনায়ক বলেন আর ব্যক্তি মানুষ হিসেবে। আমরা তাকে অনেক মিস করব।
আল-আমিন হোসেন
অধিনায়ক হিসেবে তো বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল। তিনি যত দিন খেলেছেন আমাদের আগলে রেখেছেন। কখনো অভ্যন্তরীণ বা বাইরের নেতিবাচক বিষয়গুলো আমাদের বুঝতেই দেননি। তিনি দারুণভাবে সব সামলেছেন। অধিনায়ক হিসেবে কালকেই তার শেষ। আমি দোয়া করব, ভাই যেন খেলোয়াড় হিসেবে হলেও আরো কিছুদিন আমাদের সঙ্গে থাকেন।
মেহেদী হাসান মিরাজ
অনেকগুলো ওয়ানডে খেলেছি। প্রায় ৪০টার মতো ওয়ানডে খেলা হয়েছে। যে কয়দিনই ছিলাম, খুবই আগলে রেখেছেন সবাইকে। আমরা বেশিই মিস করব। বিশেষ করে আমরা যারা তাকে অল্প পেয়েছি। তারপরও যতটুকু পেয়েছি, নিজেকে সৌভাগ্যবান বলতে হয়। তার নেতৃত্বে খেলেছি, এটা জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল।
