শতভাগ মনিটরিং করেও ৪৬ ভাগ করোনা আক্রান্ত শনাক্ত সম্ভব!

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২০, ০৩:২০ পিএম

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) শনাক্তে শতভাগ স্ক্রিনিং ও মনিটরিং করেও মাত্র ৪৬ ভাগ রোগীকে চিহ্নিত করা সম্ভব। আর ঢিলেঢালা মনিটরিং হলে তো অবস্থা কী দাঁড়াবে কথাই নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বিবিসি বাংলাকে এমনটাই জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে একমাত্র রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআর করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারে।

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দুটি সমুদ্রবন্দর এবং সবগুলো স্থলবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের স্ক্রিনিং হচ্ছে বলে জানায় আইইডিসিআর।

এর মধ্যে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্মাল আর্চওয়ে এবং হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়ে যাত্রী স্ক্রিনিং করা হয়। সিলেট ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরে কোনো আর্চওয়ে নেই। সেখানে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের অনেকেই বিমানবন্দর পার হয়ে অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে এই স্ক্রিনিং ঢিলেঢালাভাবে হচ্ছে।

বিএসএমএমইউ’র ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, যেহেতু এ ভাইরাস মানুষে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে, তাই এটি দ্রুতগতিতে দেশে দেশে সংক্রমিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি শতভাগ মনিটরিংও করেন, গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র আপনি ৪৬ শতাংশ কেইসকে আপনি শনাক্ত করতে পারবেন, রিয়েল কেইস যারা।’

অধ্যাপক মুন্সী বলেন, ‘তার মানে ধরেন একশ’ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি আসলেন আজকে এয়ারপোর্ট দিয়ে, এর মধ্যে ৪৬ জনকে আপনি আইডেনটিফাই করতে পারবেন। সুতরাং একটা বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন এখানেই রয়ে গেল আগে থেকেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে যদি ঢিলেঢালাভাবে হয় তাহলেতো বুঝতেই পারছেন যে এটার কী অবস্থা হবে।’

আইইডিসিআর জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

আইইডিসিআর’র পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার (৫ই মার্চ) পর্যন্ত কাউকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, মানবদেহে এ ভাইরাসের লক্ষণ এবং উপসর্গ না থাকলে করোনা বা কভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিনা সেটি শনাক্ত করতে শুধু স্ক্রিনিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও জানান সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, ‘আমরা এয়ারপোর্টে যে স্ক্রিনিং করি সেখানে কেবলমাত্র লক্ষণ উপসর্গ আছে কিনা সেটা দেখা হয়। স্ক্যানারের মাধ্যমে জ্বর আছে কিনা সেটা দেখা হয়।’

আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘এর পাশাপাশি তাদের মধ্যে অন্য লক্ষণ উপসর্গ আছে কিনা সেটা দেখার জন্য আমরা একটা হেলথ ডিক্লারেশন ফরম দেই। এর মধ্যে লক্ষণ, উপসর্গের তালিকা থাকে সে অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করা হয়।’

‘এছাড়া হেলথ ডিক্লারেশন ফরম ফোন নম্বরসহ আইইডিসিআর-এ চলে আসে। সেই ফরমটিকে আমরা সেলফোন ভিত্তিক সার্ভিল্যান্স সার্ভিসের আওতায় নিয়ে আসি’ যোগ করেন তিনি।

মীরজাদী ফ্লোরা বলেন, ‘কার্ডে থাকা ফোন নম্বর ধরে দেশে আসার পর প্রত্যেক যাত্রীকে অন্তত দুইবার ফোন করা হয়। দেশে এসে পৌঁছানোর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে একবার এবং ১০-১৪ দিনের মধ্যে আরেকবার ফোন করে তার মধ্যে লক্ষণ, উপসর্গ আছে কিনা সেটা জিজ্ঞেস করা হয়।’

বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্ত একজন রোগীও পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, করোনাভাইরাসে প্রথম সংক্রমিত দেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত