বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২০, ১০:৫৮ এএম

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে একই উপজেলার ২০নং পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।

এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন বলে দাবি শিক্ষিকার। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মানহানি সম্পর্কে স্থায়ী সমাধান চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা চাকরির সুবাদে ২০১৬ সাল থেকে ভেদরগঞ্জ পৌরসভার গৈড্যা এলাকায় দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

বাসার কাছে হওয়ায় ছেলেকে ২০নং পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান তিনি।

২০১৯ সালে ছেলের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই শিক্ষিকার। পরে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে তাদের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে।

শিক্ষিকার স্বামী বাসায় না থাকলে তার বাসায় যেতেন শিক্ষক রহিম। শিক্ষিকার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্কও করেছেন রহিম।

২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম ও শিক্ষিকাকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে।

ঘটনাটি শিক্ষিকার ভাড়া বাসার লোকজন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জেনে যায় এবং ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।

আব্দুর রহিম শিক্ষিকাকে সর্বশেষ বিয়ের প্রস্তাব দেয়, এই  শর্তে স্বামীকে তালাক দিতে হবে। পরে স্বামীকে তালাক দিয়ে দেন শিক্ষিকা।

কিন্তু আব্দুর রহিম তাকে বিয়ে করবে বলে সময় নিয়ে তালবাহানা করতে থাকে। তাই বৃহস্পতিবার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন শিক্ষিকা।

এদিকে প্রধান শিক্ষিক আব্দুর রহিম বলেন, ওই শিক্ষিকা খারাপ চরিত্রের নারী। বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষিকা। এটা একটি ষড়যন্ত্র।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ওই শিক্ষিকা ২০নং পূর্ব গৈড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার ও নড়িয়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেনকে। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত