পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় কুঁচে ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার। কষ্টদায়ক এ কাজ করে কোনোমতো বেঁচে আছে তারা। এদিকে কুঁচে ধরাকে কেন্দ্র করে উপজেলার মুলাডুলিতে গড়ে উঠেছে আড়ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেখান থেকে সপ্তাহে ৪-৫শ কেজি কুঁচে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা জানায়, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত কুঁচে ধরার মৌসুম। তবে এপ্রিলে বেশি পাওয়া যায়। পুকুর, খাল-বিলে কুঁচে বেশি থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা এগুলো শিকার করে। একজন প্রতিদিন গড়ে ২-৩ কেজি করে কুঁচে ধরতে পারে। আরও জানায়, পুকুর বা বিলের পাশের ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে মোটা সুতার সঙ্গে বড়শি বেঁধে তার সঙ্গে কেঁচো অথবা ছোট ব্যাঙ লাগিয়ে গর্তের মধ্যে দিয়ে নাড়া দিলেই কুঁচে ধরা যায়। প্রতি কেজি কুঁচে বিক্রি করেন ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়।
কুঁচে শিকারি বাবু বিশ্বাস, শম্ভু বিশ্বাস, বিনোদ ও আলবর বিশ্বাস জানান, প্রথমে এসব ধরতে খুবই ভয় করত। কিন্তু জীবিকার তাগিদে ভয়ভীতি ত্যাগ করে কুঁচে ধরছি। কয়েকজনের অভিযোগ, সম্মানজনক কোনো পেশায় তাদের কাজ দেওয়া হয় না।
আড়তদার আশরাফ হোসেন ও শাহীন শেখ জানান, এখানকার কুঁচে প্রথমে ঢাকায় এবং পরে সেখান থেকে চীন, হংকংসহ ১৫ দেশে রপ্তানি হয়। রাজধানীর উত্তরায় শুধু কুঁচে ও কাঁকড়ার আড়ত রয়েছে। প্রতি কেজি তারা পাইকারদের কাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করেন। তারা আরও জানান, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১২ জন পাইকার রয়েছেন, যারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের থেকে কুঁচে কিনে বিদেশে রপ্তানি করছেন।
