ডেকে নিয়ে নিজ দলের ২ নেতাকে ছাত্রলীগের মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২০, ০২:১৫ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিজ দলের দুই নেতাকে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

রবিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার দুই নেতা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসাইন মাহী এবং একই বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিন শুভ।

জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই এলাহীর ফোন পেয়ে তার ভাইকে দেখতে বরুড়ায় তার বাড়িতে যান মমিন।

এ সময় মাহীসহ ৫-৬ জন নেতা-কর্মী সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, রেজার ভাইয়ের সঙ্গে এলাকায় একটি ঝামেলা চলছিল। তবে ঝামেলার কথা শুনে চলে আসেন তারা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাত নয়টার দিকে এ দুই নেতাকে জিমনেশিয়ামে ডাকেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ অন্য নেতারা।

সেখানে গেলে সভাপতি ও সম্পাদকের সামনেই এ দুই নেতাকে এলোপাতাড়ি চড়, লাথি, ঘুষি দিতে থাকেন নজরুল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আশিক আব্দুল্লাহ, সহসভাপতি নাজমুল হাসান পলাশ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম, ফিন্যান্স বিভাগের সালমান চৌধুরী, দত্ত হলের সিফাতসহ হল শাখার অন্তত ১০-১৫ জন নেতা-কর্মী।

যাদের অনেকেই মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের জুনিয়র ছিলেন। এ সময় জিমনেশিয়ামের যন্ত্র দিয়েও তাদের শরীরে আঘাত করা হয়।

এদিকে মারধরের পর এ দুই নেতাকে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতা মাহী বলেন, ‘বিকেলে মমিন আমাকে বলে যে ভাই বরুড়া যাব, চলেন। আমিও তার সঙ্গে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি একটা ঝামেলা হচ্ছে। আমরা সে ঝামেলায় জড়াইনি। সেখান থেকে চলে আসি।’ মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

ছাত্রলীগ নেতা মমিন জানান, ‘রেজা ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে আমার অনেক আগের সম্পর্ক। ওনার ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা শুনে দেখতে যাই। সঙ্গে মাহী ভাইসহ কয়েকজন আমার সঙ্গে যায়। আমরা সেখানে গিয়ে তার ভাইকে দেখে চলে আসি। কিন্তু এখানে আসার পর কি থেকে কি হলো বুঝতে পারিনি। আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব অসুস্থ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, 'দুইজনকে প্রচুর মারধর করেছে কয়েকজন নেতা। হয়তো ভয়ে তারা কিছু বলবে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘তারা রেজার এলাকায় গিয়ে বাড়িঘর কোপাইসে। সংগঠনের অনুমতি ব্যতীত তারা এলাকায় মারামারি করসে। ওই এলাকার মানুষ আমাদের বলেছে। বিষয়টি নিয়ে পোলাপাইন ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণে মারসে। তবে তেমন মারেনি। পোলাপাইন যদি রাতে আবার হলে মারে এ জন্য তাদেরকে আপাতত হলে না থাকার জন্য বলেছি। এ ছাড়া একজনের কাছে আমাদের সংগঠনেরই প্রায় হাজারখানেক স্ক্রিনশট আছে। এরা সংগঠনের ভেতর ঝামেলা করছে।’

শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও সাধারণ সম্পাদক মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এ বিষয়টি জানতাম না। এখন শুনেছি। কেউ অভিযোগ না করলে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না। তবুও আমি বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিব। আর ছাত্রলীগ তো কাউকে হল থেকে বের করে দিতে পারে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত