মারা গেলেন কলকাতার অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ১০:২৭ এএম

মারা গেছেন কলকাতার অভিনেতা সন্তু মুখোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তার দুই মেয়ে অভিনেত্রী স্বস্তিকা ও কস্টিউম ডিজািইনার অজপা মুখোপাধ্যায়।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এই অভিনেতার ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল অনেক দিন ধরে। তার মাঝে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দক্ষিণ কলকাতায় নিজের বাড়িতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা যান।

মাঝে দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সন্তু। কিছুদিন আগেই তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

তরুণ মজুমদারের ‘সংসার সীমান্ত’ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন সন্তু মুখোপাধ্যায়। তারপর তপন সিনহার ‘রাজা’ ছবি দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয়। ‘হারমোনিয়াম’, ‘গণদেবতা’র মতো জনপ্রিয় ছবিতেও অভিনয় করেছেন সন্তু।

সিনেমার পাশাপাশি থিয়েটার ও ধারাবাহিকেও কাজ করেছেন। ‘জন্মভূমি’তে তার অভিনীত রতিকান্ত চরিত্রটি আইকনিক। সাম্প্রতিককালে ‘ইষ্টিকুটুম’, ‘জলনূপুর’, ‘কুসুমদোলা’, ‘অন্দরমহল’সহ অসংখ্য সিরিয়ালে তিনি অভিনয় করেছেন। অসুস্থ হওয়ার আগে ‘নকশি কাঁথা’, ‘মোহর’ ধারাবাহিকে কাজ করছিলেন।

এ দিকে সন্তুর মৃত্যুতে বিষাদের সুর বেজে চলেছে টলিউডের অন্দরে।

অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মনে পড়ে যাচ্ছে তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘হেমন্তের পাখি’র কথা। ওই ছবিতে তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সন্তু মুখোপাধ্যায়। পরম বলেন, ‘‘খুব কাছ থেকে চিনতাম তাকে। আমার মায়ের ইউনিভার্সিটির সিনিয়র ছিলেন সন্তু কাকু। এক সঙ্গে কত আড্ডা দিয়েছি। খেতে খুব ভালোবাসতেন। আমুদে, বৈঠকি, মেজাজি মানুষ ছিলেন। খুব খারাপ লাগছে।’’

অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য বলেন, ‘‘কাছের মানুষ ছিলেন। প্রচুর শিখেছি তার কাছ থেকে। আমাকে খুব ভালোবাসতেন। অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন থেকেই সেটা শুনেছিলাম। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে এমনটা ঘটবে সেটা কিছুতেই ভাবিনি।’’

‘নকশিকাঁথা’, ‘জলনূপুর’ , ‘কুসুম দোলা’, ‘ফাগুন বউ’ ধারাবাহিকে সন্তু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন স্নেহা চট্টোপাধ্যায়। এই অভিনেত্রীর কথায়, ‘‘একটা বাদশাহি ব্যাপার ছিল সন্তুদার মধ্যে। গাড়ি থেকে নামা কণ্ঠস্বর, অভিনয় সবটাই রাজকীয়। সেই সন্তুদা শুয়ে পড়েছেন দেখে খুব বড় ধাক্কা লেগেছিল।  খুব ইয়ার্কিও করতেন। বলতেন, আর কথা বলার লোক কই? এই তো  তোরা কয়েক জন।’’

পায়েল সরকার ক্যারিয়ারের শুরুতেই অভিনয় করেছিলেন সন্তু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সেই স্মৃতির রেশ টেনে তিনি বললেন, ‘‘সেই ভাবে কাজের সুযোগ না হলেও, ক্যারিয়ারের শুরুতে ওঁকে পেয়েছিলাম। খুব খারাপ লাগছে। অপূরণীয় ক্ষতি আমাদের সবার জন্য।’’

পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের মনে পড়ে যাচ্ছে সন্তুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা। নিজের বাবার সঙ্গেও মিল খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। বলেন, ‘‘বাবা মনে করতেন উত্তম কুমারের পর তিনি বাংলা সিনেমা জগতের সবচেয়ে প্রমিজিং অভিনেতা।’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত