বুড়িমারী স্থলবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদেই চলছে করোনাভাইরাস শনাক্ত কার্যক্রম

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ০৮:৫৮ পিএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মুখেও দায়সারা ভাবেই চলছে ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপনকারী স্থলবন্দর লালমনিরহাটের বুড়িমারী।

দেশের অভ্যন্তরে বুড়িমারী আর ওপাশে ভারতের চ্যাংড়াবান্দা। প্রতিনিয়ত ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসাসহ নানা কাজে বন্দরটি দিয়ে ৩৫০ থেকে ৪৫০ পাসপোর্টধারী মানুষ যাতায়াত করছেন। এখানে ২টি হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার আর জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। বন্দরে বসানো হয়নি ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানার।

জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য গত ২৭ জানুয়ারি থেকে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এটি চালুর সময় শুধু মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হতো। পরে এখানে একটি হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার দেওয়া হয়। সেটি দিয়েই কাজ করে আসছে মেডিকেল টিম।

আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরটি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক ট্রাক। অথচ করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কার মুখে সতর্কতা হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ একেবারেই নেই বললেই চলে।

বুধবার বিকেলে স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক অভিবাসন চৌকিতে গিয়ে দেখা গেছে এসব চিত্র। চৌকির বাংলাদেশে প্রবেশমুখে কাস্টমস কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে কাজ করছে মেডিকেল টিম। তারা ভারত থেকে আসা যাত্রীদের করোনাভাইরাসের নানা উপসর্গে কথা জিজ্ঞাসার পাশাপাশি ‘হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার’ দিয়ে জ্বর মেপেই ছেড়ে দিচ্ছেন। তিন সদস্যের মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রাসেল আহমেদ।

টিমের প্রধানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা আছে কি-না তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি  থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রাও মাপা হচ্ছে।’

কার্যক্রম শুরুর পর থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত বন্দর ব্যবহার করা প্রায় ১১ হাজার ৭শ যাত্রীর পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কাউকেই করোনারোগে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু বলেন, প্রতিটি উপজেলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখাসহ সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত